ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মোংলা বন্দরের পাশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য Logo ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে? Logo ভারত সফর হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে: ডা. শফিকুর রহমান Logo রোববার এলএনজি কার্গো আসছে, গ্যাস সংকট কিছুটা কমার আশা Logo তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নিঃ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ Logo বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট-টাইম জব ও ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর তাগিদ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমীন Logo তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo এস এম গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প Logo জুলাই গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে চট্টগ্রামে ৮ শহীদ পরিবারের পাশে এ্যাব

মোংলা বন্দরের পাশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোংলা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে স্থানীয় বেকারত্ব কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়লে মোংলা বন্দরের কার্যপরিধিও সম্প্রসারিত হতে পারে। চীনের জন্য নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটির প্রস্তাবিত স্থান ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছে।

গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সমঝোতার ভিত্তিতে মোংলা বন্দরসংলগ্ন ১১০ একর জমিতে চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন জ্বালানি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা, নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং বিডার চেয়ারম্যান।

পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী অক্টোবর থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।

চীনা বিনিয়োগে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিউল হক বলেন, মোংলা বন্দরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি দেশের বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে চীনের আরও বিনিয়োগ আসতে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি বেকারত্ব কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

মোংলা বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তি মোংলা বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে বন্দরে চীনা বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সরকারি সহযোগিতা থাকলে মোংলা বন্দর এবং এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পাঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য নাব্যতা সংকটসহ বন্দরের বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

আগে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল জমি

চীনকে দেওয়া ১১০ একর জমিটি ২০১৫ সালে শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের অধীনে প্রথমে ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ভারত সরকারের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে পারেনি।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বেজার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তিতে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেও ভারতীয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি ভূমি উন্নয়নের মূল কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়।

পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি তালিকা থেকে বাদ দেয় বা বাতিল করে। এরপর ওই জমিতে চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের গতি বাড়তে পারে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
৪৫০০ বার পড়া হয়েছে

মোংলা বন্দরের পাশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

আপডেট সময় ১১:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মোংলা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে স্থানীয় বেকারত্ব কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়লে মোংলা বন্দরের কার্যপরিধিও সম্প্রসারিত হতে পারে। চীনের জন্য নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটির প্রস্তাবিত স্থান ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছে।

গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সমঝোতার ভিত্তিতে মোংলা বন্দরসংলগ্ন ১১০ একর জমিতে চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন জ্বালানি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা, নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং বিডার চেয়ারম্যান।

পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী অক্টোবর থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।

চীনা বিনিয়োগে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিউল হক বলেন, মোংলা বন্দরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি দেশের বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে চীনের আরও বিনিয়োগ আসতে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি বেকারত্ব কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

মোংলা বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তি মোংলা বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে বন্দরে চীনা বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সরকারি সহযোগিতা থাকলে মোংলা বন্দর এবং এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পাঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য নাব্যতা সংকটসহ বন্দরের বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

আগে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল জমি

চীনকে দেওয়া ১১০ একর জমিটি ২০১৫ সালে শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের অধীনে প্রথমে ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ভারত সরকারের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে পারেনি।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বেজার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তিতে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেও ভারতীয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি ভূমি উন্নয়নের মূল কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়।

পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি তালিকা থেকে বাদ দেয় বা বাতিল করে। এরপর ওই জমিতে চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের গতি বাড়তে পারে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা রয়েছে।