ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে?
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার নির্বাচনি আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হয়েছে। ফলে এই আসনে পরবর্তী উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
সদর, ভুল্লি ও রুহিয়া নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে মির্জা পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মির্জা ফখরুলের বাবা প্রয়াত মির্জা রুহুল আমিনের সময় থেকেই আসনটি পরিবারটির দখলে ছিল। তবে মাঝখানে প্রায় দেড় যুগ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল আসনটি। এ সময় আসনটির রাজনৈতিক সমীকরণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হিন্দু ভোটারের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এখন স্থানীয় রাজনীতিতে মূল আলোচনা—বিএনপির এই ঘাঁটির পরবর্তী কাণ্ডারি কে হচ্ছেন? মির্জা পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পরিবারের কেউ প্রার্থী হচ্ছেন, নাকি দলের অন্য কোনো নেতা পাচ্ছেন মনোনয়ন—এ নিয়েই চলছে আলোচনা।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলামের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ও মেয়ে শামারুহ মির্জা। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য জানিয়েছেন, উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার ভাষ্য, স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে ফয়সাল আমিন ও শামারুহ মির্জা—দুজনই পরিচিত ও জনপ্রিয়। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
ফয়সাল আমিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে মির্জা ফয়সাল আমিনের। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র। পাশাপাশি জেলা বিএনপি ও সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ফয়সাল আমিনকে নিয়মিত সক্রিয় দেখা গেছে। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
আলোচনায় শামারুহ মির্জাও
অন্যদিকে সক্রিয় রাজনীতিতে নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শামারুহ মির্জার নামও আলোচনায় রয়েছে।
করোনাকালীন সময় ও পরবর্তী সময়ে অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তায় তার সম্পৃক্ততা ছিল। নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করা হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে বিএনপি, তা নির্ভর করছে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর। উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে দলীয় তৎপরতা আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।




















