বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চান শফিকুর রহমান
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) এ চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে। লাগামহীন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি শিল্প-উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যা জনগণকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এই সংকটকালে নীরব থাকার সুযোগ নেই। দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদে অর্থবহ আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ
সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী লিখিত পরামর্শ দিলে রাষ্ট্রপতিকে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানানো হলেও প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ না দিলে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করতে পারবেন না।
চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশে বিশেষ অধিবেশনের নজির
অর্থনৈতিক সংকট, যুদ্ধ বা বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের নজির রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের অধিবেশনের নজির তুলনামূলকভাবে সীমিত।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে আলোচনা করতে ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল আরেকটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছিল।
বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যেও সংসদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের নজির রয়েছে। এসব অধিবেশনে সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান সংসদে ভাষণ দিয়েছেন।
১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসিপ ব্রোজ টিটো সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। একই বছরের ১৮ জুন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরিও সংসদের আরেকটি বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন।

























