আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হবে: আমিনুল হক
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক অপরাধও কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘যেখানেই খালি জায়গা থাকবে, সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।’
শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সহযোগিতা করে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
আমিনুল হক বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করা হয়েছে। দুর্নীতির কারণেই আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিস্ট উপাধি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিগত আমলে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল।
বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে, বর্তমান সরকার সেসব ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, সে জন্য কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের জীবনযাত্রা ভিন্ন হলেও তাদের চাহিদা প্রায় একই। তারা মানসম্মত শিক্ষা, শোভন কাজ, মর্যাদাপূর্ণ জীবন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও টেকসই ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়নি। বরং সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রতিবছর হাজার হাজার স্নাতক বের হলেও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাদের দক্ষতার সামঞ্জস্য ছিল না। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে।
বর্তমান সরকার কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দক্ষ যুবশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় হতাশ তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। দেশের মোট মাদকাসক্তের ৮০ শতাংশই তরুণ ও যুবক বলে তিনি দাবি করেন।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না থাকায় হতাশ তরুণদের একটি অংশ গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনে আসক্ত হয়েছে। সরকারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি, মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়া ভাতা, খেলার মাঠ তৈরি ও আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান এবং এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।


























