আট দফা দাবিতে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের স্মারকলিপি
নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র বহাল রাখা, অবসরের বয়স বৃদ্ধি এবং বিবাহ-তালাক নিবন্ধন ফি বাড়ানোসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ও নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ ঐক্য পরিষদ। দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দেশের সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারদের নির্ধারিত অধিক্ষেত্র অবসর পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া পিতার অবসরের পর যোগ্যতার ভিত্তিতে তার পুত্রকে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করে ছেলেদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর এবং মেয়েদের ১৬ বছর নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়েছে।
নিকাহ রেজিস্ট্রারদের হয়রানি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ‘ডিও লেটার’ প্রথা বাতিলের দাবিও রয়েছে স্মারকলিপিতে।
সপ্তম দাবিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ফি পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বিবাহ নিবন্ধন ফি প্রতি হাজারে ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা, পরবর্তী প্রতি লাখে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, তালাক নিবন্ধন ফি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা এবং বিবাহের নকল ফি ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম দাবিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে ও তালাকের হলফনামা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের হলফনামার কারণে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নিকাহ রেজিস্ট্রাররা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন নেতারা।
সারা দেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ও নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ ঐক্য পরিষদের সভাপতি কাজী মাওলানা জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মো. মফিজুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক কাজী মাওলানা মো. নেয়ামত উল্লাহ, সহ-অর্থ সম্পাদক কাজী মাওলানা মো. নূরুল আমিন, কাজী মাওলানা শাহ ওমর ফারুক, কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান, কাজী মাওলানা মো. রুবেল মিয়া, কাজী মাওলানা মো. সোহরাব হোসেন, কাজী মাওলানা রুহুল আমিন মিয়াজীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।






















