বনানীতে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ছুরি হাতে যুবক গ্রেপ্তার
রাজধানীর বনানীতে ছুরি দেখিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে হজরত আলী (৩১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। এ সময় ছুরি হাতে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে সাহসিকতা ও কৌশলের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বনানী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ও এসআই বিকিরণ চাকমাসহ পুলিশের সদস্যরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বনানী রোড-১১ এলাকায় সিটি ব্যাংকের সামনে আকিব খোন্দকার নামে এক যুবক তার মোটরসাইকেল পার্ক করে পাশের একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান। ওষুধ কেনা শেষে মোটরসাইকেলের কাছে ফিরে এলে হজরত আলী জোরপূর্বক মোটরসাইকেলটি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
আকিব মোটরসাইকেলের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে হজরত আলী কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করেন। এ অবস্থায় আকিব চাবি নিয়ে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
এ সময় বনানী থানার টহলরত এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত হজরত আলী ধারালো ছুরি নিয়ে পুলিশ ও উপস্থিত জনতার দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ জানায়। তার হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় সরাসরি কাছে গিয়ে তাকে আটক করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য হিসেবে এসআই বিকিরণ চাকমার নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পুলিশ সদস্যরা প্রথমে জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন। এরপর কৌশল অবলম্বন করে এসআই বিকিরণ চাকমা অভিযুক্ত হজরত আলীকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে এসআই রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর হজরত আলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নির্দেশে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঘটনার সময় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে এসআই রফিকুল ইসলাম, এসআই বিকিরণ চাকমা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন গুলশান জোনের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল কবির খান এবং বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।


























