ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক Logo মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে খুলনা-বাগেরহাট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo মিরপুরে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo রশিদ খানের ঘূর্ণিতে ১৬০ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ Logo দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আগে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo হিমছড়িতে সাগরে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ Logo অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: রাষ্ট্রপতি Logo আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন, ব্যয় ৩৪০৯ কোটি টাকা Logo ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮ Logo ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, নিহত ১, গ্রেপ্তার ১,৮০০

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আগে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতিবিদরা নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত না হলে অন্যকে দুর্নীতি বন্ধের কথা বললে মানুষ হাসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে হলে রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক নেতাদের আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।

বুধবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ে শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে কারও কাছ থেকে টাকা নিলে সেদিনই তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা হবে। ব্যক্তিগতভাবে কারও উপকার করার প্রয়োজন হলে তিনি তা করবেন। তবে কোনো কাজ করতে না পারলে সরাসরি জানিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা রাজনীতি, সমাজ ও দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না।

আসাদুজ্জামান বলেন, আগে টিআর ও কাবিখার বরাদ্দের টাকা কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে উত্তোলন করা হতো। এখন সেই সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। বরাদ্দের টাকা দিয়ে নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিজের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন সাধারণ ভ্যানচালকের কথাও তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এলাকার সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী কোনো ঘুষ খান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেকড়ের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। নিজের দলের কোনো নেতার ডোপ টেস্টের ফল পজিটিভ এলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ভোর ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করছেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকুপা উপজেলার কোথায় কী ধরনের দুর্বলতা ও সংকট রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলার সব কাঁচা রাস্তা পাকা করা হবে।

এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খেলার মাঠের স্বল্পতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। আসাদুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হলেও স্কুলগুলোর খেলার মাঠ তৈরি করে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি সব সময় তাদের পাশে থাকবেন।

পরে আইনমন্ত্রী শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রযুক্তি যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁরাও এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকার কীভাবে এ প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা ঠান্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সুভাষ চন্দ্র সাহা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু তালেব মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাবলু, প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানসহ কয়েক শ শিক্ষক ও স্থানীয় সাংবাদিক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৪৫০৫ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আগে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতিবিদরা নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত না হলে অন্যকে দুর্নীতি বন্ধের কথা বললে মানুষ হাসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে হলে রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক নেতাদের আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।

বুধবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ে শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে কারও কাছ থেকে টাকা নিলে সেদিনই তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা হবে। ব্যক্তিগতভাবে কারও উপকার করার প্রয়োজন হলে তিনি তা করবেন। তবে কোনো কাজ করতে না পারলে সরাসরি জানিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা রাজনীতি, সমাজ ও দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না।

আসাদুজ্জামান বলেন, আগে টিআর ও কাবিখার বরাদ্দের টাকা কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে উত্তোলন করা হতো। এখন সেই সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। বরাদ্দের টাকা দিয়ে নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিজের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন সাধারণ ভ্যানচালকের কথাও তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এলাকার সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী কোনো ঘুষ খান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেকড়ের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। নিজের দলের কোনো নেতার ডোপ টেস্টের ফল পজিটিভ এলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ভোর ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করছেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকুপা উপজেলার কোথায় কী ধরনের দুর্বলতা ও সংকট রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলার সব কাঁচা রাস্তা পাকা করা হবে।

এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খেলার মাঠের স্বল্পতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। আসাদুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হলেও স্কুলগুলোর খেলার মাঠ তৈরি করে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি সব সময় তাদের পাশে থাকবেন।

পরে আইনমন্ত্রী শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রযুক্তি যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁরাও এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকার কীভাবে এ প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা ঠান্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সুভাষ চন্দ্র সাহা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু তালেব মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাবলু, প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানসহ কয়েক শ শিক্ষক ও স্থানীয় সাংবাদিক।