ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খুলনায় বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলি-ভাঙচুরের অভিযোগ Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার জাইমা রহমান Logo হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী Logo তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গুতেরেস ; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo ডিএমপির ১১ কর্মকর্তাকে রদবদল Logo জাতিসংঘে তারেক রহমানের বক্তব্যে শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে: ওলামা দলের বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী Logo আওয়ামী লীগকে ফেরানোর ইন্ধন দিচ্ছে সরকারের একটি অংশ: গোলাম পরওয়ার Logo জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণ: শান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান Logo জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক Logo জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ, ওয়াকআউট করলেন কয়েক ডজন প্রতিনিধি

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গুতেরেস ; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠকের পর এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

সফরের তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, বৈঠকের শুরুতেই গুতেরেস প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। জবাবে দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়াতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

মাহ্দী আমিন বলেন, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই ভাষণে বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার, বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

সফরের কর্মসূচিকে দ্বিপক্ষীয়, বহুপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবেশ এবং মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্যে চারটি প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্মেলনে তৃণমূল পর্যায়ে প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী, নিয়োগ এবং ২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইং ও জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫১৬ বার পড়া হয়েছে

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গুতেরেস ; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন

আপডেট সময় ১০:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠকের পর এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

সফরের তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, বৈঠকের শুরুতেই গুতেরেস প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। জবাবে দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়াতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

মাহ্দী আমিন বলেন, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই ভাষণে বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার, বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

সফরের কর্মসূচিকে দ্বিপক্ষীয়, বহুপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবেশ এবং মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্যে চারটি প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্মেলনে তৃণমূল পর্যায়ে প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী, নিয়োগ এবং ২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইং ও জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।