নাজমুল হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
জুলাই আন্দোলনে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় মো. নাজমুল হত্যা মামলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পরে তাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আখতারুজ্জামান সরকার গত ৩০ জুলাই অজয় কর খোকনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সোমবার শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হলে আসামিপক্ষে আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে অজয় কর খোকন বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা না থাকা সত্ত্বেও একের পর এক মামলায় তাকে জড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন এবং আদালত ‘নো শোন অ্যারেস্ট, নো হ্যারেজ’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই আদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো থেকে রেহাই পাননি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী জামিননামাও দাখিল করা হয়। এরপরও নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, যা হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোড এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন মো. নাজমুল। বিকেলে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পরবর্তীতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

















