দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, বগুড়ায় ১ জন এবং পঞ্চগড়ে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
গাইবান্ধা
জেলায় বজ্রপাতে সর্বোচ্চ ৫ জন নিহত হয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন— ফুয়াদ (১৪), রাফি (১৫) ও মিজান (২০)। একই সময়ে ফুলছড়ি উপজেলার জামিরা চরে মানিক হোসেন (২২) এবং সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামে নম্বার আলী (৬৫) নিহত হন। ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ
তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— আব্দুল হামিদ (৫০) ও হাসান আলী (২৪)।
ঠাকুরগাঁও
পীরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নারী-পুরুষসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন সেলিনা আক্তার এবং ইলিয়াস আলী (৩৭)।
জামালপুর
সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রাঘাতে এক কৃষক ও এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন হাসমত আলী (৪৫) এবং মর্জিনা বেগম (৪০)।
পঞ্চগড়
আটোয়ারী উপজেলার একটি চা-বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (৩৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বগুড়া
গাবতলী উপজেলায় ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
নাটোর
সিংড়া উপজেলার চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ ঘটনাই ঘটে খোলা মাঠে কাজ করা বা বাড়ি ফেরার পথে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কালবৈশাখী মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় সবাইকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।