ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গুপ্ত ইস্যুতে মুখ খুললেন সর্ব মিত্র চাকমা Logo নেত্রকোনায় জামায়াত এমপির গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, ৯ জন গ্রেপ্তার Logo সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo অবশেষে ইসলামাবাদে পৌঁছালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি Logo বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে,বাংলাদেশ অন্যতম Logo পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, বিজেপি–তৃণমূল পাল্টাপাল্টি দাবি Logo ডিজেলচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া বেড়েছে ১১ পয়সা প্রতি কিলোমিটার, প্রজ্ঞাপন জারি Logo সার ডিলার বাতিল, নতুন নিয়োগ শিগগির-চিপ হুইপ Logo বিচার বিভাগের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই: আইনমন্ত্রী Logo নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে প্যানেল পদ্ধতির দাবি বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির

বিচার বিভাগের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই: আইনমন্ত্রী

মোঃ আজিজুর রহমান সুমন

যশোর, শুক্রবার

বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলোৎপাটনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় তুলে আনতে চাই। কোনোভাবেই একটি কলুষিত বিচার ব্যবস্থা আমরা মেনে নিতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী মাসদার হোসেন মামলা-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। তবে আমরা এমন কোনো বিচার ব্যবস্থা চাই না, যেখানে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। বরং বিচার বিভাগের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই।”

সরকার বিচার বিভাগ সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কিংবা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রতিটি আইন পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা পরিমার্জন করা হবে।”

বিতর্কিত ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। ফলে জুলাই সনদের কোনো শক্তিশালী আইনি ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিচ্ছে।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সভায় স্থানীয় আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এর আগে আইনমন্ত্রী প্রয়াত বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম-এর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবন পরিদর্শন করেন এবং বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত এই অবস্থান এবং সংস্কার উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
৪৫১৩ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

বিচার বিভাগের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

যশোর, শুক্রবার

বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলোৎপাটনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় তুলে আনতে চাই। কোনোভাবেই একটি কলুষিত বিচার ব্যবস্থা আমরা মেনে নিতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী মাসদার হোসেন মামলা-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। তবে আমরা এমন কোনো বিচার ব্যবস্থা চাই না, যেখানে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। বরং বিচার বিভাগের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই।”

সরকার বিচার বিভাগ সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কিংবা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রতিটি আইন পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা পরিমার্জন করা হবে।”

বিতর্কিত ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। ফলে জুলাই সনদের কোনো শক্তিশালী আইনি ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিচ্ছে।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সভায় স্থানীয় আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এর আগে আইনমন্ত্রী প্রয়াত বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম-এর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবন পরিদর্শন করেন এবং বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত এই অবস্থান এবং সংস্কার উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।