ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা Logo ভারতীয় ‘পুশইন’-এর প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন, কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু Logo দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নরসিংদীতে সরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন, জারি হলো প্রজ্ঞাপন Logo ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান প্রধানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার Logo আদ্-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ: ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম Logo অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যুর মামলায় স্বামীর এক দিনের রিমান্ড Logo চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাইলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে মৌজা রেট: অর্থমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন, কঠোর অবস্থানে সরকার

মো: ইসমত দ্দোহা, লক্ষ্মীপুর

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সমন্বয় রেখে লক্ষ্মীপুরেও চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন। এক দিকে দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষকরা, অন্য দিকে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

স্কুলে তালা ঝুলিয়ে” কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তাদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কাজে ফিরে না গেলে শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অবিলম্বে কাজে যোগদান করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া সংক্রান্ত বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। অন্যথায় এ ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাভঙ্গ বা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রমাণে সর্বনিম্ন শাস্তি তিরস্কার এবং সর্বোচ্চ চাকরি থেকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে।

চাকরি আইনের দশম অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীর আচরণ এবং শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিধান অনুসরণক্রমে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রুজু ও পরিচালনা করতে পারবে।

এই আইনের শাস্তিতে বলা হয়েছে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করতে পারবে, যথা—
লঘু দণ্ডসমূহ—তিরস্কার; নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ; বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ; কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

গুরুদণ্ডসমূহ—নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ; বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান; চাকরি হইতে অপসারণ; চাকরি হইতে বরখাস্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বলেছে,
সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদানের দাবিসহ অন্য আরো দুটি দাবি, যথা ১০ ও ১৬ বছর চাকরি শেষে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা এবং বেতন-কমিশনের সভাপতির সঙ্গে উল্লিখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। এর আগে এ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৭ আগস্ট সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড হতে ১১তম গ্রেড এ উন্নীতকরণের বিষয়টি বিবেচনার জন্য জাতীয় বেতন কমিশনের সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই অর্থ বিভাগ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপর্যুক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করার পরেও দেখা যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে বিভিন্নভাবে ওিই পরীক্ষা গ্রহণে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং কোথাও কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষকদের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মসূচি গ্রহণ সরকারি চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী এবং ফৌজদারি আইনেও বিবেচ্য।

‘এ পরিস্থিতিতে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণকে অবিলম্বে কাজে যোগদান করে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। অন্যথায় এ ধরনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকুরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের বেশি। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি, বর্তমানে কর্মরত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।

গত ২৭ নভেম্বর থেকে তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’। গত সোমবার তারা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও শুরু করে। তারা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল কর্মবিরতির পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

প্রায় একই দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের আরেকটি সংগঠন ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর কর্মবিরতি পালন করেছিল। গতকাল সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বুধবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ৪ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে ‘তালাবদ্ধ’ কর্মসূচি শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলে আপাতত ১১তম গ্রেড দেওয়া, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তির জটিলতার নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি দেওয়া। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকেরা ১৩তম গ্রেডে আছেন (শুরুর মূল বেতন ১১ টাকা)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
৪৬৪৫ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন, কঠোর অবস্থানে সরকার

আপডেট সময় ০১:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সমন্বয় রেখে লক্ষ্মীপুরেও চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন। এক দিকে দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষকরা, অন্য দিকে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

স্কুলে তালা ঝুলিয়ে” কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তাদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কাজে ফিরে না গেলে শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অবিলম্বে কাজে যোগদান করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া সংক্রান্ত বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। অন্যথায় এ ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাভঙ্গ বা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রমাণে সর্বনিম্ন শাস্তি তিরস্কার এবং সর্বোচ্চ চাকরি থেকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে।

চাকরি আইনের দশম অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীর আচরণ এবং শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিধান অনুসরণক্রমে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রুজু ও পরিচালনা করতে পারবে।

এই আইনের শাস্তিতে বলা হয়েছে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করতে পারবে, যথা—
লঘু দণ্ডসমূহ—তিরস্কার; নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ; বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ; কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

গুরুদণ্ডসমূহ—নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ; বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান; চাকরি হইতে অপসারণ; চাকরি হইতে বরখাস্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বলেছে,
সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদানের দাবিসহ অন্য আরো দুটি দাবি, যথা ১০ ও ১৬ বছর চাকরি শেষে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা এবং বেতন-কমিশনের সভাপতির সঙ্গে উল্লিখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। এর আগে এ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৭ আগস্ট সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড হতে ১১তম গ্রেড এ উন্নীতকরণের বিষয়টি বিবেচনার জন্য জাতীয় বেতন কমিশনের সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই অর্থ বিভাগ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপর্যুক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করার পরেও দেখা যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে বিভিন্নভাবে ওিই পরীক্ষা গ্রহণে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং কোথাও কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষকদের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মসূচি গ্রহণ সরকারি চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী এবং ফৌজদারি আইনেও বিবেচ্য।

‘এ পরিস্থিতিতে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণকে অবিলম্বে কাজে যোগদান করে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। অন্যথায় এ ধরনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকুরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের বেশি। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি, বর্তমানে কর্মরত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।

গত ২৭ নভেম্বর থেকে তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’। গত সোমবার তারা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও শুরু করে। তারা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল কর্মবিরতির পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

প্রায় একই দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের আরেকটি সংগঠন ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর কর্মবিরতি পালন করেছিল। গতকাল সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বুধবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ৪ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে ‘তালাবদ্ধ’ কর্মসূচি শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলে আপাতত ১১তম গ্রেড দেওয়া, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তির জটিলতার নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি দেওয়া। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকেরা ১৩তম গ্রেডে আছেন (শুরুর মূল বেতন ১১ টাকা)