মিরপুরের বাড়ি দখল ও চাঁদা দাবির মামলার তদন্তে এসআরবি
রাজধানীর মিরপুরে বাড়ি দখল, মারধর, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে নবগঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেল সংস্থাটি।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতে মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন করেন। পরে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এসআরবিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
ঢাকার সিএমএম আদালতের নাজির আবুল হাসান কানন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এসআরবিকে কোনো মামলা তদন্তের নির্দেশ দিলেন আদালত।’
মামলার আসামিরা হলেন হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টি।
আদালতের আদেশে বলা হয়, এসআরবি আইনের ১০(গ) ধারায় মাদক, সাইবার অপরাধ, ভূমি ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ভূমি-সংক্রান্ত হওয়ায় এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী মহাপরিচালককে যেকোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন আদালত।
আদেশে আরও বলা হয়, বাদীর নালিশি দরখাস্তটি এসআরবি দিয়ে তদন্ত করা যুক্তিযুক্ত। আইনের ১৫(২) ধারা অনুযায়ী এসআরবিতে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন কোনো সদস্যকে দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুর হাউজিং এস্টেটের জমিতে নির্মিত একটি বহুতল ভবনের মালিক মো. ইউনুস আলী ও রুমা আক্তার সপরিবারে কানাডায় অবস্থান করছেন। তাদের চাচা মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় হেমায়েত উদ্দিন সুমনের নেতৃত্বে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই তারা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
একপর্যায়ে হেমায়েত উদ্দিন বাদীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন এবং দুই লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।


























