ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়া মূল চালিকা শক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-ইসরায়েল গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সাংবাদিকতায় ১৭ বছরে তৈরি জঞ্জাল দূর করাই সরকারের লক্ষ্য: পার্থ Logo শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের গভীর উদ্দেশ্য আছে: রিজভী Logo গুজব রোধে ফ্যাক্ট চেক প্রচারের আহ্বান প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর Logo গুলশানে নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল: ডিসি-ওসি প্রত্যাহার Logo ভাঙ্গায় প্রকাশ্যে গুলি: গুলশান থেকে দুই আসামি গ্রেপ্তার Logo ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে তিন প্রকল্প, ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি Logo ৭ মাসে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি: মাহদী আমিন Logo মেট্রোরেলের লাইনে কাপড়, দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন

বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণসীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিনিধি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার:

ব্যবসায়িক অর্থায়নের ওপর বিদ্যমান চাপ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি বড় ঋণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে ব্যাংকগুলো একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্পগোষ্ঠীকে আগের তুলনায় অনেক বেশি ঋণ দিতে পারবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যবহৃত এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) ও গ্যারান্টি সুবিধাও বাড়ানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক এখন তার মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্পগোষ্ঠীকে দিতে পারবে। এতদিন এই সীমা ছিল ১৫ শতাংশ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগের ১৫ শতাংশ সীমা আগামী ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ আগামী চার বছর বড় শিল্পগোষ্ঠী ও করপোরেট গ্রুপগুলো বাড়তি হারে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, কোনো ব্যাংকের মূলধন যদি ১ হাজার কোটি টাকা হয়, তাহলে আগে ওই ব্যাংক একটি শিল্পগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারত। এখন একই ব্যাংক সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।

এ ছাড়া বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো ‘আনফান্ডেড’ ঋণের ঝুঁকি হিসাবের ক্ষেত্রে একক ঋণসীমা নির্ধারণে নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এসব সুবিধার মোট মূল্যের মাত্র ২৫ শতাংশ একক ঋণসীমার হিসাবে গণনা করা হবে। আগে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ।

এর ফলে একই সীমার মধ্যে এখন ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ এলসি খুলতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আগে ১০০ কোটি টাকার একটি এলসি খোলা হলে সেটি ব্যাংকের একক ঋণসীমার ৫০ কোটি টাকা হিসেবে ধরা হতো। এখন সেটি ২৫ কোটি টাকা হিসেবে গণ্য হবে।

ব্যাংকারদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং কার্যকরী মূলধনের চাপে থাকা ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন। বিশেষ করে বড় আমদানিকারক ও শিল্পগোষ্ঠীগুলো সহজেই প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাবে।

তবে খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যাংকার সতর্ক করে বলেছেন, একক ঋণসীমা বাড়ানোর ফলে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর মধ্যে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

তাঁদের মতে, কোনো বড় শিল্পগোষ্ঠী ঋণখেলাপি হলে পুরো ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, বড় শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে অতিরিক্ত ঋণকেন্দ্রীকরণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালে একক ঋণসীমা নীতিতে কঠোরতা আরোপ করেছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৪৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণসীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময় ০৮:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার:

ব্যবসায়িক অর্থায়নের ওপর বিদ্যমান চাপ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি বড় ঋণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে ব্যাংকগুলো একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্পগোষ্ঠীকে আগের তুলনায় অনেক বেশি ঋণ দিতে পারবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যবহৃত এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) ও গ্যারান্টি সুবিধাও বাড়ানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক এখন তার মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্পগোষ্ঠীকে দিতে পারবে। এতদিন এই সীমা ছিল ১৫ শতাংশ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগের ১৫ শতাংশ সীমা আগামী ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ আগামী চার বছর বড় শিল্পগোষ্ঠী ও করপোরেট গ্রুপগুলো বাড়তি হারে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, কোনো ব্যাংকের মূলধন যদি ১ হাজার কোটি টাকা হয়, তাহলে আগে ওই ব্যাংক একটি শিল্পগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারত। এখন একই ব্যাংক সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।

এ ছাড়া বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো ‘আনফান্ডেড’ ঋণের ঝুঁকি হিসাবের ক্ষেত্রে একক ঋণসীমা নির্ধারণে নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এসব সুবিধার মোট মূল্যের মাত্র ২৫ শতাংশ একক ঋণসীমার হিসাবে গণনা করা হবে। আগে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ।

এর ফলে একই সীমার মধ্যে এখন ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ এলসি খুলতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আগে ১০০ কোটি টাকার একটি এলসি খোলা হলে সেটি ব্যাংকের একক ঋণসীমার ৫০ কোটি টাকা হিসেবে ধরা হতো। এখন সেটি ২৫ কোটি টাকা হিসেবে গণ্য হবে।

ব্যাংকারদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং কার্যকরী মূলধনের চাপে থাকা ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন। বিশেষ করে বড় আমদানিকারক ও শিল্পগোষ্ঠীগুলো সহজেই প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাবে।

তবে খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যাংকার সতর্ক করে বলেছেন, একক ঋণসীমা বাড়ানোর ফলে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর মধ্যে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

তাঁদের মতে, কোনো বড় শিল্পগোষ্ঠী ঋণখেলাপি হলে পুরো ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, বড় শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে অতিরিক্ত ঋণকেন্দ্রীকরণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালে একক ঋণসীমা নীতিতে কঠোরতা আরোপ করেছিল।