ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে Logo মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির সব বিমানবন্দরে হামলার হুমকি হুতিদের Logo শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ রয়েছে: মাহ্‌দী আমিন Logo পাংশায় ধর্ষণ ও সন্তান অস্বীকারের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন Logo রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা: আয়াস-সাকিবের ৩ দিন, দুজনের ২ দিনের রিমান্ড Logo আচারের বয়ামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ডায়মন্ড, স্বর্ণ ও প্লাটিনাম জব্দ Logo মাত্র ৭ হাজার টাকায় ঘরে বসেই করা যাবে এআই ইসিজি Logo আবরার ফাহাদ হত্যা: ‘গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল’, দাবি আবু হানিফের Logo দিল্লিতে আটক আইনজীবীদের মুক্তির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির Logo দিল্লিতে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিজেপি নেতার দাদির মৃত্যু

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ রয়েছে: মাহ্‌দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) গ্র্যাজুয়েটদের অর্জন ও সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত ক্যারিয়ার ও উদ্ভাবনের নানা সুযোগ রয়েছে। আজকের অর্জিত সনদ তাঁদের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে। তবে এই সাফল্যের পেছনের দীর্ঘ পথচলাও স্মরণ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ ও গবেষণাগারের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁদের এই যাত্রায় বাবা-মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বমঞ্চে আইইউটির সুনাম ধরে রাখার আহ্বান

আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে কাজ করার আহ্বান জানান মাহ্‌দী আমিন।

তিনি বলেন, আইইউটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হওয়া মেধাবী প্রকৌশলীরা বিশ্বজুড়ে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। গ্র্যাজুয়েটরা কর্মজীবনে প্রবেশের সময় আইইউটির সুনাম ও পরিচিতিও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।

আইইউটির সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের ভ্রাতৃত্ব এবং বিএনপির ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আইইউটির গুরুত্ব অপরিসীম।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একাধিকবার আইইউটি ক্যাম্পাসে এসে সমাবর্তনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভবিষ্যতে এ ক্যাম্পাসে আসবেন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসারে অবদান রাখবেন।

ব্যক্তিগত সাফল্যের বাইরে সমাজের জন্য কাজ করতে হবে

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে মাহ্‌দী আমিন বলেন, অর্জিত সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুধু ক্যারিয়ার গড়ার মাধ্যম নয়। ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব এবং অর্জিত বিশেষ দক্ষতা তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে একদিকে রয়েছে ভালো চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা ব্যবসার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। অন্যদিকে রয়েছে সমাজ ও মানবজাতির কল্যাণে কাজ করার বৃহত্তর দায়িত্ব।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, আইইউটির শিক্ষার্থীদের মেধা ও সক্ষমতা তাঁদের সামনে বিশেষ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাই কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং নতুন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে মানবকল্যাণে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, কোড লেখা এবং নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তৈরিতে সক্ষম। তবে প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা শেষ পর্যন্ত মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। মানুষের সততা, সুবুদ্ধি ও মূল্যবোধই নির্ধারণ করবে প্রযুক্তি সমাজের উপকারে আসবে, নাকি ক্ষতির কারণ হবে।

প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে এবং নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল খাতের শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতে রূপান্তর আনতে, বাস্তবমুখী গবেষণা করতে এবং সমাজের প্রকৃত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে বলেন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহ্‌দী আমিন বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিল রয়েছে। জ্ঞানকে অভিন্ন ভাষা, উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থ এবং মানবতাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করে বিশ্বজুড়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে শিক্ষার্থীদের তাঁদের অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের অসামান্য ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানান মাহ্‌দী আমিন।

সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনেরা

আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত আফতাব আহমেদ খোখোর, ওআইসিতে বেনিন প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আদম বাগৌদু জাকারি এবং রিয়াদে চাদ দূতাবাসের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মাহামাদ সালেহ আলজাজৌলি।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আলী এম. আলওয়াশ, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রীয় দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জিয়াদ এম. এইচ. হামাদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১১ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ রয়েছে: মাহ্‌দী আমিন

আপডেট সময় ০৮:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) গ্র্যাজুয়েটদের অর্জন ও সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত ক্যারিয়ার ও উদ্ভাবনের নানা সুযোগ রয়েছে। আজকের অর্জিত সনদ তাঁদের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে। তবে এই সাফল্যের পেছনের দীর্ঘ পথচলাও স্মরণ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ ও গবেষণাগারের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁদের এই যাত্রায় বাবা-মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বমঞ্চে আইইউটির সুনাম ধরে রাখার আহ্বান

আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে কাজ করার আহ্বান জানান মাহ্‌দী আমিন।

তিনি বলেন, আইইউটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হওয়া মেধাবী প্রকৌশলীরা বিশ্বজুড়ে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। গ্র্যাজুয়েটরা কর্মজীবনে প্রবেশের সময় আইইউটির সুনাম ও পরিচিতিও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।

আইইউটির সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের ভ্রাতৃত্ব এবং বিএনপির ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আইইউটির গুরুত্ব অপরিসীম।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একাধিকবার আইইউটি ক্যাম্পাসে এসে সমাবর্তনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভবিষ্যতে এ ক্যাম্পাসে আসবেন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসারে অবদান রাখবেন।

ব্যক্তিগত সাফল্যের বাইরে সমাজের জন্য কাজ করতে হবে

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে মাহ্‌দী আমিন বলেন, অর্জিত সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুধু ক্যারিয়ার গড়ার মাধ্যম নয়। ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব এবং অর্জিত বিশেষ দক্ষতা তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে একদিকে রয়েছে ভালো চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা ব্যবসার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। অন্যদিকে রয়েছে সমাজ ও মানবজাতির কল্যাণে কাজ করার বৃহত্তর দায়িত্ব।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, আইইউটির শিক্ষার্থীদের মেধা ও সক্ষমতা তাঁদের সামনে বিশেষ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাই কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং নতুন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে মানবকল্যাণে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, কোড লেখা এবং নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তৈরিতে সক্ষম। তবে প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা শেষ পর্যন্ত মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। মানুষের সততা, সুবুদ্ধি ও মূল্যবোধই নির্ধারণ করবে প্রযুক্তি সমাজের উপকারে আসবে, নাকি ক্ষতির কারণ হবে।

প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে এবং নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল খাতের শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতে রূপান্তর আনতে, বাস্তবমুখী গবেষণা করতে এবং সমাজের প্রকৃত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে বলেন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহ্‌দী আমিন বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিল রয়েছে। জ্ঞানকে অভিন্ন ভাষা, উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থ এবং মানবতাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করে বিশ্বজুড়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে শিক্ষার্থীদের তাঁদের অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের অসামান্য ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানান মাহ্‌দী আমিন।

সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনেরা

আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত আফতাব আহমেদ খোখোর, ওআইসিতে বেনিন প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আদম বাগৌদু জাকারি এবং রিয়াদে চাদ দূতাবাসের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মাহামাদ সালেহ আলজাজৌলি।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আলী এম. আলওয়াশ, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রীয় দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জিয়াদ এম. এইচ. হামাদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।