কাজীকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
মুন্সীগঞ্জে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কাজীকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপু ও তার সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রাজীব হোসেন অপু সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।
এ ঘটনায় রাজীবকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান। মামলায় রাজীবের দুই সহযোগী স্বপন (৩৫) ও সোহেল (৪৫)-এর নামও রয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে কাজী হিসেবে নিকাহ পড়ানো ও বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করে আসছেন হাবিবুর রহমান। সোমবার দুপুর ২টার দিকে রাজীব ও তার সহযোগীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় যান। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তাকে কাজী কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে জোর করে মুক্তারপুর এলাকার একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
সেখানে স্বপন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং হাবিবুর রহমান ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন। এ নিয়ে হাবিবুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার কাজীর লাইসেন্স বাতিল এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টাকা দিতে রাজি হন হাবিবুর রহমান। পরে অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাবের দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে অভিযুক্তদের দেন। টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ছেলে ও দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসান বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে, সে বিষয়েও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব হোসেন অপু ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


























