ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুবি শিক্ষকের ছেলেকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের কাছে নির্জন জঙ্গলে যায় তুহিন। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সেখানে অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে ফাহাদ ও কামরুলও লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মুঠোফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে কামরুল হাসান (১৫) এবং সদর দক্ষিণের এলাহিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। অপর আসামি সিয়ামের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৯ বার পড়া হয়েছে

কুবি শিক্ষকের ছেলেকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পুলিশের

আপডেট সময় ০৮:০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের কাছে নির্জন জঙ্গলে যায় তুহিন। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সেখানে অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে ফাহাদ ও কামরুলও লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মুঠোফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে কামরুল হাসান (১৫) এবং সদর দক্ষিণের এলাহিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। অপর আসামি সিয়ামের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।