ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে তিন প্রকল্প, ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

লাইন-১ ও নর্দার্ন রুটে বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, লাইন-৫ সাউদার্নে ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি

ঢাকার যানজট নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে চলমান দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে বাড়ানো হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। সংশোধনের পর ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এমআরটি) লাইন-১-এর ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। আর লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সভায় মেট্রোরেলের তিনটি প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

সভা শেষে একনেকের সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

একনেকের মূল এজেন্ডায় এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি ছিল। তবে ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নগরবাসীর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে জাপানের অর্থায়নে চলমান আরও দুটি প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবও একই সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

লাইন-১-এর ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল হিসেবে পরিচিত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাইন-৫ নর্দার্ন রুটে ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি

২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট নির্মাণ করা হবে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত। সংশোধনের পর এ প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

সাউদার্ন রুটে ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ইডিসিএফের যৌথ ঋণ সহায়তা থেকে আসবে।

প্রকল্পটির ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে ভূগর্ভস্থ এবং বাকি অংশ হবে উড়ালপথ। গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও হয়ে হাতিরঝিলের তলদেশ দিয়ে আফতাবনগর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। টানেলটি মাটির প্রায় ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে দ্রুত ও গণপরিবহনভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে তিন প্রকল্প, ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি

আপডেট সময় ০৮:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লাইন-১ ও নর্দার্ন রুটে বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, লাইন-৫ সাউদার্নে ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি

ঢাকার যানজট নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে চলমান দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে বাড়ানো হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। সংশোধনের পর ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এমআরটি) লাইন-১-এর ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। আর লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সভায় মেট্রোরেলের তিনটি প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

সভা শেষে একনেকের সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

একনেকের মূল এজেন্ডায় এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি ছিল। তবে ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নগরবাসীর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে জাপানের অর্থায়নে চলমান আরও দুটি প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবও একই সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

লাইন-১-এর ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল হিসেবে পরিচিত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাইন-৫ নর্দার্ন রুটে ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি

২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট নির্মাণ করা হবে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত। সংশোধনের পর এ প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

সাউদার্ন রুটে ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ইডিসিএফের যৌথ ঋণ সহায়তা থেকে আসবে।

প্রকল্পটির ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে ভূগর্ভস্থ এবং বাকি অংশ হবে উড়ালপথ। গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও হয়ে হাতিরঝিলের তলদেশ দিয়ে আফতাবনগর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। টানেলটি মাটির প্রায় ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে দ্রুত ও গণপরিবহনভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।