গাজীপুরে কলেজছাত্র সিফাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহকে (২৫) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার দুপুরে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের বাসা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশ।
গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নিয়ে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সিফাতের যোগসূত্র রয়েছে।
তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থক। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাকে সরকারসংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, চলতি মাসে তার বাসায় ৪ হাজার এবং গত মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে, যা অতিরিক্ত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষয়টি গাছা থানা পুলিশকে জানান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ তাকে আটক করে।
সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে থানায় ভিড় করেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান বলেন, সিফাত এনসিপির সমর্থক এবং ইনকিলাব মঞ্চের একজন অ্যাক্টিভিস্ট। অহেতুক তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সিফাতকে আটকের পর পুলিশ তাকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তিকারী হিসেবে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
আলী নাসের খান বলেন, বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার বিষয়ে সমালোচনা করা যাবে না—এটা কেমন কথা। আমরা সিফাতকে শুরু থেকেই চিনি। তিনি জুলাই আন্দোলনেও ছিলেন এবং সবসময় সরকারের বিভিন্ন অসংগতি ও অন্যায় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি যেমন কথা বলেছেন, তেমনি বিভিন্ন সময় এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও সমালোচনা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিফাতকে বাসা থেকে লুঙ্গি পরা অবস্থায় তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে পুলিশ তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি ও সরকারসংশ্লিষ্টদের গালিগালাজের অভিযোগ তুলেছে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, ঘটনাটি মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও সংবিধানে দেওয়া মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। তিনি এটিকে পুলিশের বাড়াবাড়ি ও অতি উৎসাহী আচরণ বলেও অভিযোগ করেন।






















