ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুয়াকাটা ভ্রমণে গিয়ে পুকুরে ডাবল ডেকার বাস, আহত ১৫ Logo চট্টগ্রামমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়তে পারে: পরওয়ার Logo মাসের শেষ দিকে সারা দেশে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা Logo বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসায় কড়াকড়ি Logo মাদারীপুরে পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, আহত ৬ Logo নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ১১ দিনে ইরানের ১০০ কোটি ডলারের বেশি তেল আয় Logo ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার Logo আগস্টে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার ২৫২ জন

চট্টগ্রামমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়তে পারে: পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে সরকারি দল, তাদের অঙ্গসংগঠন বা প্রশাসনের কোনো অংশ বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচি সরকার উৎখাতের আন্দোলন নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এক সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী জনসভার মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সমাবেশ শেষে সেখান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে লালদীঘির উদ্দেশে গাড়িবহর যাত্রা করবে।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে গাড়িবহরে যানবাহনের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে। সময়ের সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ১১ দলের শীর্ষ নেতারা গাড়িবহরের নেতৃত্ব দেবেন।

লংমার্চের প্রথম পথসভা হবে চিটাগাং রোডে। এরপর কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রামে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষে ফেনী ও মীরসরাই হয়ে বহরটি চট্টগ্রামের লালদীঘির দিকে এগিয়ে যাবে।

সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় লালদীঘি ময়দান ছাড়িয়ে পুরো চট্টগ্রাম মহানগরী জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

লংমার্চ সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিটি ট্রাকে নির্দিষ্ট স্টিকার থাকবে। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক দল ও আইটি বিভাগের যানবাহনের অবস্থান এবং দায়িত্বও আগে থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের নিজ দায়িত্বে শুকনা খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রাপথে গাড়িবহরে থাকা কেউ যেন অপ্রয়োজনে গাড়ি থেকে নেমে না পড়েন, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পথসভাগুলোতে শুধু আমন্ত্রিত বক্তারা গাড়ি থেকে নেমে বক্তব্য দেবেন। বক্তব্য শেষে তারা আবার গাড়িবহরে যুক্ত হবেন বলে জানান আয়োজকরা।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিরোধী দলগুলোর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের এই আন্দোলন সরকারের পতন ঘটানোর জন্য নয়।

তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা এবং গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া জনগণের রায় মেনে নেওয়া।

এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, অপরাধ দমন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসনের দাবিতেও এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিরোধী দলগুলোর ছয় দফা দাবি মেনে নেবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি সম্মান দেখাবে বলেও তিনি আশা করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়তে পারে: পরওয়ার

আপডেট সময় ০২:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে সরকারি দল, তাদের অঙ্গসংগঠন বা প্রশাসনের কোনো অংশ বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচি সরকার উৎখাতের আন্দোলন নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এক সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী জনসভার মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সমাবেশ শেষে সেখান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে লালদীঘির উদ্দেশে গাড়িবহর যাত্রা করবে।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে গাড়িবহরে যানবাহনের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে। সময়ের সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ১১ দলের শীর্ষ নেতারা গাড়িবহরের নেতৃত্ব দেবেন।

লংমার্চের প্রথম পথসভা হবে চিটাগাং রোডে। এরপর কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রামে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষে ফেনী ও মীরসরাই হয়ে বহরটি চট্টগ্রামের লালদীঘির দিকে এগিয়ে যাবে।

সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় লালদীঘি ময়দান ছাড়িয়ে পুরো চট্টগ্রাম মহানগরী জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

লংমার্চ সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিটি ট্রাকে নির্দিষ্ট স্টিকার থাকবে। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক দল ও আইটি বিভাগের যানবাহনের অবস্থান এবং দায়িত্বও আগে থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের নিজ দায়িত্বে শুকনা খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রাপথে গাড়িবহরে থাকা কেউ যেন অপ্রয়োজনে গাড়ি থেকে নেমে না পড়েন, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পথসভাগুলোতে শুধু আমন্ত্রিত বক্তারা গাড়ি থেকে নেমে বক্তব্য দেবেন। বক্তব্য শেষে তারা আবার গাড়িবহরে যুক্ত হবেন বলে জানান আয়োজকরা।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিরোধী দলগুলোর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের এই আন্দোলন সরকারের পতন ঘটানোর জন্য নয়।

তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা এবং গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া জনগণের রায় মেনে নেওয়া।

এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, অপরাধ দমন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসনের দাবিতেও এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিরোধী দলগুলোর ছয় দফা দাবি মেনে নেবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি সম্মান দেখাবে বলেও তিনি আশা করেন।