ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুয়াকাটা ভ্রমণে গিয়ে পুকুরে ডাবল ডেকার বাস, আহত ১৫ Logo চট্টগ্রামমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়তে পারে: পরওয়ার Logo মাসের শেষ দিকে সারা দেশে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা Logo বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসায় কড়াকড়ি Logo মাদারীপুরে পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, আহত ৬ Logo নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ১১ দিনে ইরানের ১০০ কোটি ডলারের বেশি তেল আয় Logo ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার Logo আগস্টে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার ২৫২ জন

বাড়ছে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক

দিন দিন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। অনেকের ধারণা, শুধু অ্যালকোহল পান করলেই এ রোগ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল পান না করলেও বিভিন্ন কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং বিভিন্ন ধরনের মেটাবলিক সমস্যার কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রয়েছে।

শরীরে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলেও এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি লিভারের কোষগুলো পুরোপুরি প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে লিভার তা চর্বিতে রূপান্তর করে। ধীরে ধীরে এই চর্বি লিভারের কোষে জমতে শুরু করে। দীর্ঘদিন এভাবে চর্বি জমতে থাকলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের

ফ্যাটি লিভার রোগ সাধারণত দুই ধরনের—অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করার কারণে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হতে পারে। অন্যদিকে অ্যালকোহল পান না করেও অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসসহ বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার কারণে যে ফ্যাটি লিভার হয়, তাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলা হয়।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারের কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • পেটের ডানদিকের ওপরের অংশে ব্যথা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক বা আচমকা ওজন কমে যাওয়া
  • প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন
  • ত্বকে চুলকানি
  • মলের রঙ পরিবর্তন
  • চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

তবে অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে রোগের মাত্রা ও কারণ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: এশিয়ানেট

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

বাড়ছে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

আপডেট সময় ১২:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিন দিন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। অনেকের ধারণা, শুধু অ্যালকোহল পান করলেই এ রোগ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল পান না করলেও বিভিন্ন কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং বিভিন্ন ধরনের মেটাবলিক সমস্যার কারণে ফ্যাটি লিভার হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রয়েছে।

শরীরে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলেও এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি লিভারের কোষগুলো পুরোপুরি প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে লিভার তা চর্বিতে রূপান্তর করে। ধীরে ধীরে এই চর্বি লিভারের কোষে জমতে শুরু করে। দীর্ঘদিন এভাবে চর্বি জমতে থাকলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের

ফ্যাটি লিভার রোগ সাধারণত দুই ধরনের—অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করার কারণে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হতে পারে। অন্যদিকে অ্যালকোহল পান না করেও অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসসহ বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার কারণে যে ফ্যাটি লিভার হয়, তাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলা হয়।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারের কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • পেটের ডানদিকের ওপরের অংশে ব্যথা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক বা আচমকা ওজন কমে যাওয়া
  • প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন
  • ত্বকে চুলকানি
  • মলের রঙ পরিবর্তন
  • চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

তবে অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে রোগের মাত্রা ও কারণ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: এশিয়ানেট