ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়, কাতার-বাহরাইনে সর্বোচ্চ সতর্কতা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শোনা বিস্ফোরণের শব্দগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসা অথবা নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে বাহরাইনও। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত (সাইরেন) চালু করে নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কয়েকটি জাহাজ অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। আইআরজিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা সামরিক অভিযান শুরু করে। সেন্টকমের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
























