দিনাজপুরে পিতা-পুত্র হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আলোচিত পিতা-পুত্র হত্যা মামলার প্রধান দুই পলাতক আসামিকে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এবং র্যাব-১৩, রংপুরের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, নিহত শহিদুল হক দুলু এবং তার ছেলে জয়নাল আবেদিন দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার উত্তর পলাশবাড়ী টেপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি মোঃ সাদেকুল ইসলাম ও দ্বিতীয় আসামি মোঃ সাকিব নিহত শহিদুল হক দুলুর সন্তান এবং নিহত জয়নাল আবেদিনের সৎভাই। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে জানা যায়, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে ১ থেকে ৩ নম্বর আসামিরা ৪ থেকে ১০ নম্বর আসামিদের প্ররোচনায় চিরিরবন্দর থানার উত্তর পলাশবাড়ী বেগপাড়া গ্রামের মৃত বুলু হাজীর ভুট্টাক্ষেতে শহিদুল হক দুলুর ওপর ধারালো ছোরা ও লোহার শাবল দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল হক দুলুর মৃত্যু হয়। এ সময় পিতাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে জয়নাল আবেদিনকেও ছোরা ও শাবল দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত শহিদুল হক দুলুর অপর ছেলে ১০ জনকে আসামি করে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-১৩/২১, তারিখ ১৩ মে ২০২৬; ধারা ৩০২/৩৪, পেনাল কোড, ১৮৬০।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মামলার প্রধান আসামি মোঃ সাদেকুল ইসলাম (৩০) এবং দ্বিতীয় আসামি মোঃ সাকিব (১৯) চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানা এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-১৩, রংপুরের যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি মোঃ সাদেকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ইপিজেড থানাধীন হোটেল ব্লু সোম ইন্টারন্যাশনালের সামনে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে দ্বিতীয় আসামি মোঃ সাকিবকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।























