ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বুথফেরত সমীক্ষা ‘টাকা দিয়ে করানো’, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

নিজস্ব সংবাদ :

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অধিকাংশ সমীক্ষায় যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে জয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার এক ভিডিয়োবার্তায় মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি নাকি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করে বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করিয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ২২৬টির বেশি আসন পাবে, এমনকি ২৩০-ও ছুঁতে পারে। উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।

মমতা বলেন, “মানুষ যে ভাবে কষ্ট করে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাকে যারা দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল, তারা ভোটবাক্সেই জবাব পেয়েছে।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের কিছু অংশ তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে।

বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলেও আখ্যা দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সমীক্ষা দেখিয়ে কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

গণনার দিন নিয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে মমতা নির্দেশ দেন, গণনাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। ইভিএম বদলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রার্থীদের নিজে উপস্থিত থেকে গণনা পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান এবং বলেন, প্রয়োজন হলে তিনিও গণনাকেন্দ্রে যাবেন।

কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। হামলা হলেও সংযত থাকতে হবে, আমরা প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।”

এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন। প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করে বলেন, তিনি বাংলার বাস্তবতা বোঝেন না।

সব মিলিয়ে, বুথফেরত সমীক্ষার বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী বলেই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৫২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
৪৬৩৫ বার পড়া হয়েছে

বুথফেরত সমীক্ষা ‘টাকা দিয়ে করানো’, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

আপডেট সময় ০৭:৫২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অধিকাংশ সমীক্ষায় যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে জয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার এক ভিডিয়োবার্তায় মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি নাকি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করে বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করিয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ২২৬টির বেশি আসন পাবে, এমনকি ২৩০-ও ছুঁতে পারে। উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।

মমতা বলেন, “মানুষ যে ভাবে কষ্ট করে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাকে যারা দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল, তারা ভোটবাক্সেই জবাব পেয়েছে।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের কিছু অংশ তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে।

বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলেও আখ্যা দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সমীক্ষা দেখিয়ে কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

গণনার দিন নিয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে মমতা নির্দেশ দেন, গণনাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। ইভিএম বদলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রার্থীদের নিজে উপস্থিত থেকে গণনা পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান এবং বলেন, প্রয়োজন হলে তিনিও গণনাকেন্দ্রে যাবেন।

কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। হামলা হলেও সংযত থাকতে হবে, আমরা প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।”

এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন। প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করে বলেন, তিনি বাংলার বাস্তবতা বোঝেন না।

সব মিলিয়ে, বুথফেরত সমীক্ষার বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী বলেই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।