ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি রুমিন ফারহানার

নিজস্ব সংবাদ :

ঢাকা, বুধবার (২৯ এপ্রিল): অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ দাবি জানান তিনি। অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বক্তব্য রাখার সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন রুমিন ফারহানা।

চুক্তি নিয়ে আপত্তি ও আলোচনা দাবি

রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা রয়েছে বলে তখনই বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠেছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এই চুক্তি বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তিটি সংসদে এনে আলোচনা করা উচিত, যাতে এর ভালো-মন্দ দিক পর্যালোচনা করা যায়।”

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বৈঠকের প্রসঙ্গ

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক এক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন-এর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর বৈঠকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ওই বৈঠকে মার্কিন পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরে বলে জানান তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করা হয়, তার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।”

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংক মহল থেকে বলা হয়েছিল, একটি অনির্বাচিত সরকারের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা উচিত নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, এসব আপত্তি সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে।

স্পিকারের হস্তক্ষেপ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা আরও সময় চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। পরে স্পিকার জানান, বিষয়টি সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী ‘অর্ডার’ হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

তবুও রুমিন ফারহানা পুনরায় সংক্ষিপ্ত সময় নিয়ে বলেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি বাতিল করতে পারে এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া জরুরি।

নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৪৬০৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি রুমিন ফারহানার

আপডেট সময় ০৯:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা, বুধবার (২৯ এপ্রিল): অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ দাবি জানান তিনি। অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বক্তব্য রাখার সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন রুমিন ফারহানা।

চুক্তি নিয়ে আপত্তি ও আলোচনা দাবি

রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা রয়েছে বলে তখনই বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠেছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এই চুক্তি বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তিটি সংসদে এনে আলোচনা করা উচিত, যাতে এর ভালো-মন্দ দিক পর্যালোচনা করা যায়।”

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বৈঠকের প্রসঙ্গ

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক এক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন-এর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর বৈঠকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ওই বৈঠকে মার্কিন পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরে বলে জানান তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করা হয়, তার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।”

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংক মহল থেকে বলা হয়েছিল, একটি অনির্বাচিত সরকারের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা উচিত নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, এসব আপত্তি সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে।

স্পিকারের হস্তক্ষেপ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা আরও সময় চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। পরে স্পিকার জানান, বিষয়টি সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী ‘অর্ডার’ হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

তবুও রুমিন ফারহানা পুনরায় সংক্ষিপ্ত সময় নিয়ে বলেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি বাতিল করতে পারে এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া জরুরি।

নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।