ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত Logo উগান্ডায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান: বাংলাদেশিসহ ২৩১ বিদেশি আটক Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি রুমিন ফারহানার Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪ উড়োজাহাজ ক্রয়ে চুক্তি করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত Logo বিরোধী দলের অসুস্থ এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo জামিন পেলেন এমপি ‘আমির হামজা‘ Logo প্রথমবারের মত চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ Logo ‘অক্ষত‘ মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করে নকল তৈরিতে মরিয়া ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি রুমিন ফারহানার

নিজস্ব সংবাদ :

ঢাকা, বুধবার (২৯ এপ্রিল): অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ দাবি জানান তিনি। অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বক্তব্য রাখার সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন রুমিন ফারহানা।

চুক্তি নিয়ে আপত্তি ও আলোচনা দাবি

রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা রয়েছে বলে তখনই বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠেছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এই চুক্তি বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তিটি সংসদে এনে আলোচনা করা উচিত, যাতে এর ভালো-মন্দ দিক পর্যালোচনা করা যায়।”

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বৈঠকের প্রসঙ্গ

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক এক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন-এর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর বৈঠকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ওই বৈঠকে মার্কিন পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরে বলে জানান তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করা হয়, তার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।”

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংক মহল থেকে বলা হয়েছিল, একটি অনির্বাচিত সরকারের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা উচিত নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, এসব আপত্তি সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে।

স্পিকারের হস্তক্ষেপ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা আরও সময় চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। পরে স্পিকার জানান, বিষয়টি সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী ‘অর্ডার’ হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

তবুও রুমিন ফারহানা পুনরায় সংক্ষিপ্ত সময় নিয়ে বলেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি বাতিল করতে পারে এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া জরুরি।

নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৪৫০৫ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি রুমিন ফারহানার

আপডেট সময় ০৯:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা, বুধবার (২৯ এপ্রিল): অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ দাবি জানান তিনি। অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বক্তব্য রাখার সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন রুমিন ফারহানা।

চুক্তি নিয়ে আপত্তি ও আলোচনা দাবি

রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা রয়েছে বলে তখনই বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠেছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এই চুক্তি বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তিটি সংসদে এনে আলোচনা করা উচিত, যাতে এর ভালো-মন্দ দিক পর্যালোচনা করা যায়।”

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বৈঠকের প্রসঙ্গ

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক এক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন-এর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর বৈঠকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ওই বৈঠকে মার্কিন পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরে বলে জানান তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করা হয়, তার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।”

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংক মহল থেকে বলা হয়েছিল, একটি অনির্বাচিত সরকারের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা উচিত নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, এসব আপত্তি সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে।

স্পিকারের হস্তক্ষেপ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা আরও সময় চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। পরে স্পিকার জানান, বিষয়টি সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী ‘অর্ডার’ হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

তবুও রুমিন ফারহানা পুনরায় সংক্ষিপ্ত সময় নিয়ে বলেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি বাতিল করতে পারে এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া জরুরি।

নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।