একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে, জনগণ তা মেনে নেবে না: ডা. শফিকুর রহমান
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে দেশের জনগণ এমন ব্যবস্থা মেনে নেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান-এ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ইতিহাসে একদলীয় শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং বাংলাদেশের জনগণও তা মেনে নেবে না।
২০২৪ সালের আন্দোলন ও ২০২৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের ফলেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কারণেই বর্তমান সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল গঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের প্রতি অবজ্ঞা বা উপহাস করা আত্মঘাতী রাজনৈতিক আচরণ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি, কালো টাকার ব্যবহার ও ভয়ভীতির মধ্যেও জনগণ ১১ দলীয় ঐক্যকে একটি আসন উপহার দিয়েছে। ভোট গণনা ও ফলাফল সম্পূর্ণ সুষ্ঠু হলে আরও আসনে তাদের বিজয় হতো বলেও তিনি দাবি করেন।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ৬৬.৮ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই জনরায়কে সম্মান জানিয়ে সরকারকে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। জনগণের রায় উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন।
সরকারের বাজেট ও দুর্নীতি নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে এবং বর্তমান সরকারও চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চল ধীরে ধীরে সন্ত্রাসের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির-এর সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।