ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ও হিজাবধারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে হাইকোর্টে রিট Logo নির্বাচনী আচরণবিধিতে ইসির বড় পরিবর্তন: ভোটার স্লিপ ও মাইক ব্যবহারে নতুন নিয়ম Logo শার্শায় বিএনপির নির্বাচনী পথসভা, জন সমুদে পরিণত Logo এক যুগেও সন্ধান মেলেনি বিএনপি নেতা ওমর ফারুকের Logo বিএসসি ও ডিপ্লোমা দ্বন্দ্ব: সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করে কারিগরি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo শুক্রবার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সম্ভাবনা Logo ‘গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে’: বরিশালে তারেক রহমান Logo নির্বাচন ঘিরে বান্দরবান-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা Logo আকবরশাহ থানায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি আসিফ গ্রেফতার-র‌্যাব-৭ Logo আসন্ন নির্বাচনে কোনো দলের পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভবিষ্যৎ ভোটের মানদণ্ড হয়ে থাকবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব সংবাদ :

১২ই ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই মন্তব্য করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।

বৈঠকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেয়া প্রধান কয়েকটি পররাষ্ট্রনীতিও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান জোটের সদস্যপদ পেতে ঢাকার পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান মাধ্যম হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক আসবে। একই সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও ভোট পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। আমরা একটি ভালো ফলের প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তাদের সঙ্গেই কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

এ সময় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন মার্কিন দূত। একইসঙ্গে গত ১৮ মাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে নবঘোষিত শ্রম আইনেরও প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক আরও কমানো সম্ভব হবে। বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় কৃষি পণ্যের বাণিজ্যের সম্প্রসারণ অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন অধ্যাপক ইউনূস।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে এই আঞ্চলিক জোটের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর জন্য আবেদন করেছে।

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, এই অঞ্চলের জনগণ এবং অর্থনীতিকে আরও কাছাকাছি আনতে গত ১৮ মাস ধরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-কে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। পরবর্তী সরকার এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
৪৫২৪ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভবিষ্যৎ ভোটের মানদণ্ড হয়ে থাকবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১২:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

১২ই ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই মন্তব্য করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।

বৈঠকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেয়া প্রধান কয়েকটি পররাষ্ট্রনীতিও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান জোটের সদস্যপদ পেতে ঢাকার পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান মাধ্যম হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক আসবে। একই সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও ভোট পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। আমরা একটি ভালো ফলের প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তাদের সঙ্গেই কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

এ সময় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন মার্কিন দূত। একইসঙ্গে গত ১৮ মাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে নবঘোষিত শ্রম আইনেরও প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক আরও কমানো সম্ভব হবে। বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় কৃষি পণ্যের বাণিজ্যের সম্প্রসারণ অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন অধ্যাপক ইউনূস।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে এই আঞ্চলিক জোটের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর জন্য আবেদন করেছে।

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, এই অঞ্চলের জনগণ এবং অর্থনীতিকে আরও কাছাকাছি আনতে গত ১৮ মাস ধরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-কে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। পরবর্তী সরকার এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।