হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা
দিনে গরম, ভোর ও রাতের দিকে হালকা শীতের আমেজ। বাতাসে শিরশিরে ভাব, ত্বকেও পড়ছে টান। প্রকৃতিতে চলছে হেমন্তের পরিবর্তন। কয়েক দিনের মধ্যেই আসবে শীত। তবে শীতের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাপমাত্রার ওঠানামায় জ্বর, সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ছে। তাই সুস্থ থাকতে এখন থেকেই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।
সর্দি-কাশি ও জ্বর
দিনে রোদ ও রাতে ঠান্ডা বাতাসের কারণে তাপমাত্রার পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সর্দি, কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বাড়তে পারে। এ সময় ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকিও থাকে। শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে খাবারের তালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি রাখা জরুরি। পাশাপাশি মাছ, ডিমসহ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান
আবহাওয়া ঠান্ডা হতে শুরু করলে অনেকেরই পানির তৃষ্ণা কমে যায়। এ সময় বারবার চা-কফি পান করার প্রবণতাও বাড়ে। ফলে অজান্তেই শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি তাজা ফলের রস, সবজির স্যুপ ও পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি
হেমন্তে বাতাসের আর্দ্রতা কমতে শুরু করে। পাশাপাশি ধুলাবালি ও বায়ুদূষণের কারণে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে হাঁপানি ও সিওপিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ধরনের সমস্যা থাকলে বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বদহজম ও গ্যাসের সমস্যা
মরসুম পরিবর্তনের সময় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত পানি পান না করা এবং ভারী খাবার খাওয়ার কারণে বদহজম ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি সহজপাচ্য ও সুষম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
ত্বকের যত্নে বাড়তি সতর্কতা
হেমন্তে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকে টান ধরা, রুক্ষতা ও চামড়া ওঠার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় সাধারণ ময়েশ্চারাইজারের পরিবর্তে তুলনামূলক ঘন ও তৈলাক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। শিয়া বাটার ও কোকো বাটারযুক্ত ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি নিয়মিত নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, হেমন্ত থেকে শীতে যাওয়ার এই সময়টিতে সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও ত্বকের যত্নে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


























