হকারমুক্ত ফুটপাত ও ডেঙ্গুমুক্ত নগরী গড়তে কাজ করছে ডিএনসিসি
নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে হকারমুক্ত ও নিরাপদ ফুটপাত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া এভিনিউতে আয়োজিত ‘বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিযানকালে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য নগরবাসীকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা এবং ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
তিনি জানান, ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি ভবন, বাসাবাড়ি ও পরিত্যক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস করছেন। একই সঙ্গে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, বর্তমানে উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নগরবাসী ও সিটি কর্পোরেশনের সম্মিলিত সচেতনতায় এই সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সরকার ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিএনসিসি স্থানীয় হাউজিং সোসাইটি, ফ্ল্যাট মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে বলেও জানান প্রশাসক।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে তদারকি
ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হোপ মার্কেটের সামনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে থাকা ফুটপাত সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে। জনস্বার্থে অবৈধভাবে দখল করা ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধারের পর ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে একটি তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শহরের সার্বিক উন্নয়ন ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
কর্মসূচিতে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ‘বিডি ক্লিন’-এর স্বেচ্ছাসেবক এবং তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, ইন্দিরা রোড ও রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দারাও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।


























