নেপালে বন্যার ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। এর মধ্যেই সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া প্রথম শ্রমিকের নাম সঞ্জয় শাহ। তিনি এনইএর একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান। উদ্ধারের পর শ্বাসকষ্টের আশঙ্কায় তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় শ্রমিক কবির মহার্জনকেও জীবিত উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করে।
উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলগুলো জানায়, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে প্রথমে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পান তারা। এ সময় উদ্ধারকারীরা চিৎকার করে বলেন, ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ ভেতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে উত্তর আসে, ‘ঠিক আছে।’ এরপর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন তারা।
সুরেশ রাউতের তথ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনো প্রায় ৩৯ জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কতজন জীবিত আছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যার পর থেকে নিখোঁজ হাজারো মানুষের মধ্যে শত শত শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের অনেককেই মৃত বলে ধারণা করা হলেও শুক্রবার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিতদের কণ্ঠস্বর শোনার ঘটনায় উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। বন্যার পানিতে সুড়ঙ্গগুলো কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ভরে গেছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ওপরের অংশে গর্ত তৈরি করে দড়ির সাহায্যে ভেতরে নামছেন। পাশাপাশি খননযন্ত্র ব্যবহার এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীদের আশা, প্রথম দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা অন্যদেরও জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হবে।
নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা স্বজন ও উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে।























