সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
বাংলাদেশের সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। আজ রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।
বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজন এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনের একজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি দুই দফায় জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং দুবার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, আইন ও সাংবিধানিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মৌলভী মুহাম্মদ আজিজ বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
ছাত্রজীবনে ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ, জাগদল হয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যোগ দেন। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ ও দিনাজপুর-১ আসন থেকে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী নূর আখতার ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক কন্যা নিলুফার জমির এবং দুই পুত্র নওশাদ জমির ও নওফেল জমির রেখে গেছেন। বড় ছেলে নওশাদ জমির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।
দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সংসদীয় চর্চা এবং আইন অঙ্গনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।























