ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলার চার আসামি র‌্যাব-৭ এর জালে Logo ওষুধের দাম কমাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েও বাঁচলেন না ক্যান্সার রোগী, চার বছরেও শেষ হয়নি মামলা Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়, কাতার-বাহরাইনে সর্বোচ্চ সতর্কতা Logo বাংলাদেশি পাসপোর্টে বিদেশে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা, হুমকিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রমবাজার Logo রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ Logo মহাখালীতে ছুরিকাঘাতে রেলকর্মীর মৃত্যু, নারী হেফাজতে Logo হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা আইআরজিসির Logo সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই Logo শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা Logo প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরীকে হত্যা, গ্রেপ্তার মা; বাবার খোঁজে পুলিশ

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরীকে হত্যা, গ্রেপ্তার মা; বাবার খোঁজে পুলিশ

খুলনা, নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনাকে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত কিশোরী সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা।

তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কেএমপি জানায়, নিহতের বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
৪৫০৮ বার পড়া হয়েছে

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরীকে হত্যা, গ্রেপ্তার মা; বাবার খোঁজে পুলিশ

আপডেট সময় ১২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনাকে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত কিশোরী সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা।

তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কেএমপি জানায়, নিহতের বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।