সাবেক কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণের ৫ বছরের কারাদণ্ড
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে শ্যামল কৃষ্ণ দাসের অবৈধভাবে অর্জিত এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর শামীম হোসেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জামিনে থেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁর জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৩ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শ্যামল কৃষ্ণ দাস জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন। ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজের ও নির্ভরশীলদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিবরণী দুদকে জমা দেন। সেখানে তিনি দুই কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের ঘোষণা দেন।
এর সঙ্গে ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকার পারিবারিক ব্যয় যোগ করে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি চার লাখ ৯৭ হাজার ১৭ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় এক কোটি ১৯ লাখ এক হাজার ২২৫ টাকা। বাকি এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার সম্পদের বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১৭ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান শ্যামল কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

























