ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

ভারতে ধরা পড়ল ওসমান হাদি হত্যার মূল আসামি শুটার ফয়সাল ও সহযোগী আলমগীর

নিজস্ব সংবাদ :

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও ফয়সালের সহযোগী আলমগীরকে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। শনিবার রাতে বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষায়িত টিম (এসটিএফ)। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন গতকাল তাদের বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সমপ্রতি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভারত সফরে যান। তিনি ওই সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে হাদী হত্যা মামলার আসামিসহ সকল সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিষয়ে কিছু তথ্যও উপস্থাপন করেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিক তাদের দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। সুযোগ পেলে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে বনগাঁ এলাকা থেকে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তারা হলো- পটুয়াখালীর রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও ঢাকার আলমগীর হোসেন (৩৪)। দু’জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করে এবং পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা ভারতে আটকের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম রোববার সন্ধ্যায় বলেছেন, তারা (পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ) আমাদেরকে এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম করেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টা জেনেছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অফিসিয়ালি বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বন্দি চুক্তির আওতায় খুব দ্রুতই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি দুই আসামিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের কাছে খুনের মূল ক্লুসহ অনেক কিছু জানা যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
৪৫৯২ বার পড়া হয়েছে

ভারতে ধরা পড়ল ওসমান হাদি হত্যার মূল আসামি শুটার ফয়সাল ও সহযোগী আলমগীর

আপডেট সময় ০১:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও ফয়সালের সহযোগী আলমগীরকে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। শনিবার রাতে বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষায়িত টিম (এসটিএফ)। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন গতকাল তাদের বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সমপ্রতি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভারত সফরে যান। তিনি ওই সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে হাদী হত্যা মামলার আসামিসহ সকল সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিষয়ে কিছু তথ্যও উপস্থাপন করেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিক তাদের দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। সুযোগ পেলে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে বনগাঁ এলাকা থেকে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তারা হলো- পটুয়াখালীর রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও ঢাকার আলমগীর হোসেন (৩৪)। দু’জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করে এবং পালিয়ে যায়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা ভারতে আটকের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম রোববার সন্ধ্যায় বলেছেন, তারা (পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ) আমাদেরকে এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম করেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টা জেনেছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অফিসিয়ালি বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বন্দি চুক্তির আওতায় খুব দ্রুতই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি দুই আসামিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের কাছে খুনের মূল ক্লুসহ অনেক কিছু জানা যাবে।