ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে অস্বচ্ছ লটারির নামে ‘বদলি-বাণিজ্য’ ও স্বেচ্ছাচারী পদায়নের অভিযোগ! Logo যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁস: সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭ Logo যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা ও প্রটোকল জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারকে ব্যর্থ হতে হবে: গোলাম পরওয়ার Logo নয় মাসে তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে: প্রেস সচিব Logo ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী Logo রিমান্ড শেষে কারাগারে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা Logo প্রশ্ন ফাঁসের পর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১৮৬ Logo ভারতে দুই ছাত্রনেতাকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

রিমান্ড শেষে কারাগারে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ নারায়ণ পালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ।

আবেদনে বলা হয়, আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। রিমান্ডে দেওয়া তাঁদের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পরবর্তী সময়ে আবারও রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। এ জন্য তাঁদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু।

এর আগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ নারায়ণ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহারে যেসব অভিযোগ

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন আসামিরা।

এ ছাড়া ‘আজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার এবং কাজী গুলশান আরার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেন কাজী গুলশান আরা। পরে সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১৩ বার পড়া হয়েছে

রিমান্ড শেষে কারাগারে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০৭:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ নারায়ণ পালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ।

আবেদনে বলা হয়, আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। রিমান্ডে দেওয়া তাঁদের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পরবর্তী সময়ে আবারও রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। এ জন্য তাঁদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু।

এর আগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ নারায়ণ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহারে যেসব অভিযোগ

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন আসামিরা।

এ ছাড়া ‘আজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার এবং কাজী গুলশান আরার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেন কাজী গুলশান আরা। পরে সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।