জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারকে ব্যর্থ হতে হবে: গোলাম পরওয়ার
পীর-ফকিরের দরবারে ধরনা দিয়ে লাভ হবে না, জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত সরকারকে ব্যর্থ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার এখন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোটকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তুলে ধরে সরকারের নীতির সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল্যস্ফীতির হার এখন ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। মাথাপিছু আয় তিন হাজার ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ২১ এবং রেমিট্যান্স ৮ দশমিক ৯৮ মার্কিন ডলার।’
এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের চাপ সামলাতেই সরকার হিমশিম খাবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ওনারা এখন জামায়াতকে সামলাতে চাইছেন, ১১ দলকে সামলাতে চাইছেন। সামলাতে না পেরে এখন পীর-ফকিরের দরবারে ধরনা দিচ্ছেন। জনগণের প্রকৃত স্বার্থ নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো দোয়া-ফুঁতে কাজ হবে না।’
আগের সরকারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তারাও দোয়া করিয়েছে, বিভিন্ন পদবি দিয়েছে এবং র্যাব-পুলিশ ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে। একদিকে মানুষের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেই, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম চাপে পড়ছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে তিনবার পেট্রল, কেরোসিন, অকটেন, ডিজেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এত অল্প সময়ে বারবার দাম বাড়লে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ভালো থাকবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী—এমন দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে তাঁর দল। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কারণ এবং দলটির দাবিদাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইছেন।
জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাইয়ে মানুষ রক্ত দিয়েছে।
এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিল্পকারখানা, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা।


























