ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo উচ্ছেদে থামছে না ফুটপাত দখল, স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনার তাগিদ Logo অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত মদ: টস বন্ডের চার ওয়্যারহাউস সিলগালা Logo আশুলিয়ায় দুই শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলা, আহত ৬ Logo বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন Logo আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে মুক্তি দাবি শফিকুর রহমানের Logo দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী Logo দুর্গাপূজায় টানা ৯ দিনের ছুটি পাচ্ছে স্কুলশিক্ষার্থীরা Logo বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার Logo চাঁদা না পেয়ে মারধর ও গুলিবর্ষণ: যুবদলের সাবেক নেতার ৪ দিনের রিমান্ড Logo মুক্তির আগেই ‘দৃশ্যম থ্রি’র অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী। এ ঘটনার পর চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যটিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর বিল লি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাইকের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি জানান, তিনি এখনো জীবিত আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য বা চিকিৎসার অগ্রগতি জানানো হয়নি।

১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হত্যার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। আদালতে প্রমাণিত হয়, তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তিনি স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন।

বুধবার পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। আইনজীবীদের দাবি, তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাইকের আইনজীবী স্পাইভি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করেন। এ সময় তার বাম হাতে অন্তত সাতবার সুচ ব্যবহার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর বিল লি। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত পূর্ণাঙ্গ হবে এবং এতে সময় লাগবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর অনুমোদিত আইনসম্মত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম ডোজ ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থাও ওই প্রোটোকলে রয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।

পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমানোর আবেদন করছেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

এটি ২০২৬ সালে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছিল।

গভর্নর লির নতুন স্থগিতাদেশের ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও স্থগিত থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১৮ বার পড়া হয়েছে

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী

আপডেট সময় ০৮:১৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী। এ ঘটনার পর চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যটিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর বিল লি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাইকের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি জানান, তিনি এখনো জীবিত আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য বা চিকিৎসার অগ্রগতি জানানো হয়নি।

১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হত্যার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। আদালতে প্রমাণিত হয়, তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তিনি স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন।

বুধবার পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। আইনজীবীদের দাবি, তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাইকের আইনজীবী স্পাইভি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করেন। এ সময় তার বাম হাতে অন্তত সাতবার সুচ ব্যবহার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর বিল লি। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত পূর্ণাঙ্গ হবে এবং এতে সময় লাগবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর অনুমোদিত আইনসম্মত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম ডোজ ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থাও ওই প্রোটোকলে রয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।

পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমানোর আবেদন করছেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

এটি ২০২৬ সালে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছিল।

গভর্নর লির নতুন স্থগিতাদেশের ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও স্থগিত থাকবে।