ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৭ Logo এক দিনে তৃণমূলের নাম-প্রতীক হারানো, প্রার্থী প্রত্যাহার ও কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার Logo রাজশাহীতে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনকে থানায় নিল পুলিশ Logo রাজ্জাকের ২০১৬ সালের খসড়ায় স্বাক্ষর হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো: আইনমন্ত্রী Logo ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা: বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে ভারত Logo গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ, গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১ Logo তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গোপন বৈঠক, ২৩ জন আটক Logo রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ Logo ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে যুক্ত হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি

পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার কোহাট পুলিশ লাইনে এ হামলা হয়। জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাসির হাসান আফ্রিদি সংবাদমাধ্যম ডনকে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনের একটি ভবনের ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। পরে আরও কয়েকজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর সাতজন হামলাকারী পুলিশ লাইনে ঢোকার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) জানিয়েছে, হামলার পর অতিরিক্ত আইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে অংশ নেন এবং সদস্যদের নেতৃত্ব দেন।

হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। আইজি জুলফিকার হামিদ বলেছেন, হামলাকারীদের পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হামলার ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা গভীরভাবে দুঃখজনক।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জারদারি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্ফোরণের প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।

কোহাট পুলিশ লাইনে এর আগেও বড় ধরনের হামলা হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশ কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৮ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৭

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার কোহাট পুলিশ লাইনে এ হামলা হয়। জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাসির হাসান আফ্রিদি সংবাদমাধ্যম ডনকে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনের একটি ভবনের ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। পরে আরও কয়েকজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর সাতজন হামলাকারী পুলিশ লাইনে ঢোকার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) জানিয়েছে, হামলার পর অতিরিক্ত আইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে অংশ নেন এবং সদস্যদের নেতৃত্ব দেন।

হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। আইজি জুলফিকার হামিদ বলেছেন, হামলাকারীদের পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হামলার ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা গভীরভাবে দুঃখজনক।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জারদারি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্ফোরণের প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।

কোহাট পুলিশ লাইনে এর আগেও বড় ধরনের হামলা হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশ কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।