পছন্দের ক্যারিয়ার গড়তে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে সরকার: মাহ্দী আমিন
শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া, সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা ও মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, সরকার এমন একটি তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি, দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় থাকবে। রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের কল্যাণে সুনাগরিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ স্কাউটসের স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সম্মাননা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী স্কাউটদের কেন্দ্রীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে আরও বেশি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা ও বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটবে।
শুধু ভালো ফল নয়, বাস্তবমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব
পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে শিক্ষার বাস্তবমুখী প্রয়োগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, শুধু ভালো ফল করা বা সার্টিফিকেট অর্জনই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের ভূমিকা অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।
পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনের পাশাপাশি সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনের বাংলাদেশকে তরুণরাই নেতৃত্ব দেবে।
পছন্দের পেশায় মেধা বিকাশের আহ্বান
গতানুগতিক ক্যারিয়ার ভাবনার বাইরে এসে নিজেদের পছন্দের ক্ষেত্রে মেধা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সবাইকে শুধু ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। যার যে বিষয়ে আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে, সরকার তাকে সেই ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ও সহায়তা দেবে।
তিনি বলেন, কারও হিউম্যানিটিজ বা সোশ্যাল সায়েন্সে আগ্রহ থাকতে পারে, কেউ ড্রয়িং বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে দক্ষ হতে পারে। কেউ খেলোয়াড় হতে চায়, আবার কেউ বিতর্ক বা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী হতে পারে। যার যে ক্ষেত্রে মেধার বিকাশ ঘটিয়ে পেশাগতভাবে সফল হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, সরকার তার পছন্দের পথেই সর্বোচ্চ মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করবে।
মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই সমৃদ্ধ, মানবিক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের আগামীর বাংলাদেশের মূল কাণ্ডারি উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে জীবনের ভিত্তি করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল কোনো শেষ নয়; বরং এটি বড় লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ। জীবনে চ্যালেঞ্জ বা ব্যর্থতা এলেও হতাশ না হয়ে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনকে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
স্কাউটদের জন্য সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে
নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রায় আড়াই দশক আগে তিনি যখন শিক্ষার্থী ছিলেন, তখন পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে একাধিকবার পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।
তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংবর্ধনার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে গর্বিত করবে।
বাংলাদেশের স্কাউটদের এগিয়ে নিতে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি। স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও সচিবরা স্কাউটদের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন, যা এই সংগঠনের প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্বেরই প্রতিফলন।
৫৮০ মেধাবী স্কাউটকে সংবর্ধনা
বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১৩টি অঞ্চল থেকে ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউট অংশ নেন। তাদের অভিনন্দনপত্র ও মেডেল দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত প্রাইজমানিও প্রদান করা হয়।






















