ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয় চাই: আমিনুল হক Logo গুলশানের ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলায় টিউলিপের বিচার কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত Logo খুব শিগগিরই লোডশেডিং অনেকটাই কমবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা Logo নেপাল ও চীনে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ ৪৪০০-এর বেশি Logo বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না ভারতীয় হাইকমিশনার Logo পুরোনো ভবন ভেঙে আন্তর্জাতিক মানের বহুতল ভবন হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠান বাতিল করল পুলিশ Logo লালমাই পাহাড়ে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ Logo এনবিআরের ৬৮ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন Logo আদালতের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না ভারতীয় হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় সে দেশের জনগণ ও নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে ভালো বোঝে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনগণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে ভালো জানে জনগণের জন্য কী ভালো।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পারস্পরিক জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন করা।

দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত সমান মর্যাদার রাষ্ট্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়।

ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, অল্প সময়ের এই বৈঠকেও তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কোনো শেষ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই দেশের নিজ নিজ চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতাকে পারস্পরিকভাবে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি ভারতেরও নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই দুই দেশকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অতীতে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অতীত ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে সেখানে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

বৈঠকে দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কীভাবে বাণিজ্য আরও সহজ ও সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতেই ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি নিজেও ভারতের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

মীর শাহে আলম বলেন, বৈঠকে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না ভারতীয় হাইকমিশনার

আপডেট সময় ০৫:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় সে দেশের জনগণ ও নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে ভালো বোঝে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনগণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে ভালো জানে জনগণের জন্য কী ভালো।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পারস্পরিক জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন করা।

দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত সমান মর্যাদার রাষ্ট্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়।

ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, অল্প সময়ের এই বৈঠকেও তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কোনো শেষ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই দেশের নিজ নিজ চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতাকে পারস্পরিকভাবে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি ভারতেরও নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই দুই দেশকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অতীতে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অতীত ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে সেখানে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

বৈঠকে দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কীভাবে বাণিজ্য আরও সহজ ও সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতেই ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি নিজেও ভারতের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

মীর শাহে আলম বলেন, বৈঠকে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।