ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুই নৌকাডুবি: ৫৩০-এর বেশি রোহিঙ্গার মৃত্যাশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমারের উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জুনের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রধানত রোহিঙ্গা যাত্রী বহনকারী দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কয়েকজনও ছিলেন।

সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, দুটি নৌকাডুবিতে মোট ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাগুলো এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সম্ভাব্য এ ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে যাত্রা করা প্রথম নৌকাটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপরদিকে, প্রায় ২৮০ জন যাত্রী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংস্থাগুলো জানায়, নিয়মিত নৌযাত্রার মৌসুমের বাইরে এসব যাত্রা পরিচালিত হয়েছিল। এ সময় সমুদ্র সাধারণত উত্তাল ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

সহিংসতা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরের কঠিন জীবনযাপনও অনেককে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হন। এর ফলে এ সমুদ্রপথটি শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সামুদ্রিক রুটে পরিণত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের তথ্য বলছে, চলতি বছরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৩০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এরপর ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং রাখাইনে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর আগে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তের লাংকাউই উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
৪৫৮২ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুই নৌকাডুবি: ৫৩০-এর বেশি রোহিঙ্গার মৃত্যাশঙ্কা

আপডেট সময় ০৮:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমারের উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জুনের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রধানত রোহিঙ্গা যাত্রী বহনকারী দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কয়েকজনও ছিলেন।

সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, দুটি নৌকাডুবিতে মোট ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাগুলো এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সম্ভাব্য এ ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে যাত্রা করা প্রথম নৌকাটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপরদিকে, প্রায় ২৮০ জন যাত্রী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংস্থাগুলো জানায়, নিয়মিত নৌযাত্রার মৌসুমের বাইরে এসব যাত্রা পরিচালিত হয়েছিল। এ সময় সমুদ্র সাধারণত উত্তাল ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

সহিংসতা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরের কঠিন জীবনযাপনও অনেককে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হন। এর ফলে এ সমুদ্রপথটি শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সামুদ্রিক রুটে পরিণত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের তথ্য বলছে, চলতি বছরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৩০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এরপর ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং রাখাইনে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর আগে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তের লাংকাউই উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটে।