আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ফিরছে, বাজেটে নতুন প্রস্তাব
আবাসন খাতে অতীতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তবে আগের মতো বিশেষ বা কম করের সুবিধা না রেখে নিয়মিত করহারেই কর পরিশোধ করে এ সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা অর্থের উৎস নিয়ে দেশের অন্য কোনো আইনে প্রশ্ন তোলা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। আগামী ৩০ জুন বাজেটটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি, ভবন বা ফ্ল্যাট কেনার সময় প্রকৃত মূল্য গোপন করে দলিলে কম মূল্য দেখানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আয়কর বিবরণীতে তা প্রকাশ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও দলিলে প্রদর্শিত মূল্যের পার্থক্যের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পত্তি বিক্রির সময় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য গোপন করে থাকলে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনী কর দিতে হবে।
প্রস্তাবিত বিধানে আরও বলা হয়েছে, স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের আগে যদি কর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কেউ যদি ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনে দলিলে মাত্র ৫০ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে থাকেন, তাহলে গোপন করা দেড় কোটি টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা কর পরিশোধ করে অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তবে কর কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই বিষয়টি শনাক্ত করে থাকলে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা জরিমানাও দিতে হবে।
একইভাবে সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ও দলিলমূল্যের মধ্যে দেড় কোটি টাকার পার্থক্য থাকলে বিক্রেতাকে ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। আর কর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের পর তথ্য প্রকাশ করলে অতিরিক্ত জরিমানাও গুনতে হবে।
প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা হলে ওই বিনিয়োগ, সম্পত্তি ক্রয় বা অর্থের উৎস নিয়ে দেশের প্রচলিত অন্য কোনো আইনে প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
তবে যেসব ব্যক্তি স্বপ্রণোদিতভাবে ঘোষণা দেওয়ার আগে কোনো আদালতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অথবা যাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তারা এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ শতাংশ কর এবং পরের অর্থবছরে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই বিধান বাতিল করলেও নতুন বাজেটে আবারও এ ধরনের সুযোগ ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।














