ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বুথফেরত সমীক্ষা ‘টাকা দিয়ে করানো’, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। Logo সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুই মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন। Logo রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করার দাবি নাহিদ ইসলামের Logo শত্রুপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে, নতুন অস্ত্র নিয়ে ইরানের বার্তা Logo ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শামীমা পারভীন শিল্পি Logo হরমুজে অবরোধ, পারস্য উপসাগরে আটকা ২০ হাজার নাবিক Logo চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত Logo উগান্ডায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান: বাংলাদেশিসহ ২৩১ বিদেশি আটক Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি রুমিন ফারহানার Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪ উড়োজাহাজ ক্রয়ে চুক্তি করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

রাজধানীতে কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪৭টি মাথার খুলি উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড়সহ সংঘবদ্ধ মানব কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি’র তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ, ফয়সাল আহম্মেদ। গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে ২ জন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ছাত্র। গ্রেপ্তারের সময় ক্যাম্পাসের হোস্টেলের একটি রুম থেকে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ও বিভিন্ন ব্যাগ-বস্তা থেকে ৪৭টি মাথার খুলিসহ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়। কঙ্কালগুলো তারা ক্রেতাদের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করতো। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

তিনি বলেন, তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, থানা এলাকার আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া রাস্তার উপর অবৈধ উপায়ে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে। পরে সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সকাল অনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মো. আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী একইদিন দুপুর অনুমানিক সাড়ে তিনটায় দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে অবৈধভাবে গোপনে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করে রাখা উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে কক্ষ নং-৪০২ এ ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ৪৪টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা হয়।

ডিসি ইবনে মিজান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্র গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন জনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতো বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২১টি এবং আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে এই কঙ্কালগুলো ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনে পরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তারা যে কঙ্কাল বিক্রি করেন এটা তাদের ক্যাম্পাসের অনেকেই জানে। যখন কেউ কঙ্কাল কিনতে আসে বা অনলাইনে বুকিং দেয় তাদের নির্দিষ্ট সময় দেয় এবং তাদের কাছে কঙ্কাল বিক্রি করে। তাদের কাস্টমার হচ্ছে বেশির ভাগ মেডিকেল স্টুডেন্ট। আরও অন্যান্য চক্র আছে যারা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। এই প্রসেসের সঙ্গে গ্রেপ্তার ৪ জনই যুক্ত। আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি লাশ কবরস্থ হওয়ার পর এরা অবজার্ভ করে। আর এক বছর পর এটা উত্তোলনের চেষ্টা করে। তবে যে কবরস্থানগুলো বেশি সুরক্ষিত সেখানে তারা কিন্তু এই কাজগুলো করতে পারে না। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কবরস্থান দেখা যায়, ১০-২০টি থেকে ৫০টি কবর থাকে, যেটা অরক্ষিত, পাহারাদার থাকে না, সিসি ক্যামেরা থাকে না, লোকজনের যাতায়াত কম, সেসব জায়গায় তারা টার্গেট করে। পরে তাদের যে এজেন্ট আছে অথবা তাদের যে লোক বলা আছে, তাদের দিয়ে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে। সেটা কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রসেস করে তারপর তারা ফিটিং করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
৪৫৫৬ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

রাজধানীতে কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪৭টি মাথার খুলি উদ্ধার

আপডেট সময় ০১:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড়সহ সংঘবদ্ধ মানব কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি’র তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ, ফয়সাল আহম্মেদ। গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে ২ জন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ছাত্র। গ্রেপ্তারের সময় ক্যাম্পাসের হোস্টেলের একটি রুম থেকে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ও বিভিন্ন ব্যাগ-বস্তা থেকে ৪৭টি মাথার খুলিসহ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়। কঙ্কালগুলো তারা ক্রেতাদের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করতো। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

তিনি বলেন, তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, থানা এলাকার আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া রাস্তার উপর অবৈধ উপায়ে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে। পরে সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সকাল অনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মো. আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী একইদিন দুপুর অনুমানিক সাড়ে তিনটায় দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে অবৈধভাবে গোপনে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করে রাখা উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে কক্ষ নং-৪০২ এ ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ৪৪টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা হয়।

ডিসি ইবনে মিজান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্র গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন জনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতো বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২১টি এবং আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে এই কঙ্কালগুলো ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনে পরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তারা যে কঙ্কাল বিক্রি করেন এটা তাদের ক্যাম্পাসের অনেকেই জানে। যখন কেউ কঙ্কাল কিনতে আসে বা অনলাইনে বুকিং দেয় তাদের নির্দিষ্ট সময় দেয় এবং তাদের কাছে কঙ্কাল বিক্রি করে। তাদের কাস্টমার হচ্ছে বেশির ভাগ মেডিকেল স্টুডেন্ট। আরও অন্যান্য চক্র আছে যারা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। এই প্রসেসের সঙ্গে গ্রেপ্তার ৪ জনই যুক্ত। আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি লাশ কবরস্থ হওয়ার পর এরা অবজার্ভ করে। আর এক বছর পর এটা উত্তোলনের চেষ্টা করে। তবে যে কবরস্থানগুলো বেশি সুরক্ষিত সেখানে তারা কিন্তু এই কাজগুলো করতে পারে না। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কবরস্থান দেখা যায়, ১০-২০টি থেকে ৫০টি কবর থাকে, যেটা অরক্ষিত, পাহারাদার থাকে না, সিসি ক্যামেরা থাকে না, লোকজনের যাতায়াত কম, সেসব জায়গায় তারা টার্গেট করে। পরে তাদের যে এজেন্ট আছে অথবা তাদের যে লোক বলা আছে, তাদের দিয়ে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে। সেটা কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রসেস করে তারপর তারা ফিটিং করে।