ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনী সরঞ্জাম তুলে দেন আসনটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে গ্রাম ও শহরজুড়ে ছিল নির্বাচনী আমেজ। ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রচারণা শেষ হওয়ায় এখন ভোটের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
উপনির্বাচন উপলক্ষে জেলা নির্বাচন কার্যালয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য ও সাতজন পুলিশ সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া আনসার ব্যাটালিয়ন, বিজিবি ও এসআরবির সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
এ আসনে পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন, যিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। এ ছাড়া আরও তিনটি দলের তিনজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন ঘিরে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনের দিন জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য দুটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটের দিনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
এক তরুণ ভোটার বলেন, “আমি প্রথম ভোটার। এক বছরে দুইবার ভোট দিতে পারছি, এজন্য অনেক খুশি লাগছে। আগামীকাল সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাব, আশপাশের মানুষদেরও নিয়ে যাব এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। প্রার্থীরাও আমাদের কার্যক্রম দেখে সন্তুষ্ট। সব প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের ডেকে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি, একটি সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারব।”
এসআরবি-১৩ রংপুরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুর করিম বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। ভোটাররা যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন এবং কেউ যেন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারেন, সে জন্য তাঁরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। উপনির্বাচন ঘিরে এসআরবির বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া ডগ স্কোয়াড, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন ভোটাররা।




















