ইরান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বললেন ওবামা, ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণ
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্টকে দুষলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, এমন যুদ্ধের প্রয়োজন কেউ অনুভব করেনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবামাকে আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক সমাবেশে ওবামা বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার প্রয়োজন কেউ অনুভব করেনি।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।
ওবামার বক্তব্যের জবাবে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে সাবেক প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, ওবামা ছিলেন ‘চরম অযোগ্য’ প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ওবামা ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তিটি ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই চুক্তিটির বিরোধিতা করে আসছেন। ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি থেকে সরে দাঁড়ায়।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওবামা ও ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান যুদ্ধের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

























