এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম। নতুন দর অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম রোববার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
রোববার বিকেলে নতুন এ দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
নতুন দর অনুযায়ী, সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। সরবরাহ সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বড় অংশ এ এলপিজি কিনতে পারেন না।
এদিকে নতুন দাম ঘোষণার সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। কোথাও বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার যেসব এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে নতুন দর কার্যকর হলে ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে এরই মধ্যে ১২ আমদানিকারকের সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়েছে বিইআরসি। শনিবার চিঠি দিয়ে রোববারের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে পাওয়া আমদানির তথ্যও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমদানিকারকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁরা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তাঁদের দাবি, আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি।
এর আগে জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকরা একই দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও জাহাজভাড়া বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাজারে কারসাজি হয়ে থাকলে তা ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে বলে তাঁদের দাবি।
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথম মাসভিত্তিক এলপিজির দাম নির্ধারণের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর বিভিন্ন সময়ে দাম বেড়েছে ও কমেছে। তবে কমার তুলনায় বাড়ার প্রবণতাই বেশি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হয়। পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে অপরিবর্তিত থাকার পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ওঠে।
এরপর জুনে ৫৫ টাকা ও জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে দাম হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে এবার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে তা ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলো।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামের ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রতি মাসে দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।

























