উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার
রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে সাত মাসের কন্যাসন্তানকে আছড়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানিকালে আসামি কবির ইসলামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আবেদন মঞ্জুরের পর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান ফয়সাল আসামি কবিরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, দুই বছর আগে রিকশাচালক কবিরের সঙ্গে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে জন্ম নেয় শিশু রাফা মনি কবিতা। কবির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক সেবন করে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর ও গালিগালাজ করতেন।
গত ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) লিমার বাবা অসুস্থ থাকায় তিনি শিশুকন্যাকে নিয়ে বালুরমাঠ হারুন মোল্লার বস্তির বাসায় বাবাকে দেখতে যান। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কবিরের সঙ্গে লিমার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কবির ক্ষিপ্ত হয়ে নানির কোল থেকে সাত মাসের রাফা মনিকে ছিনিয়ে নেন এবং মাথার ওপরে তুলে শক্ত রাস্তায় আছাড় মারেন।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন ১৬ জুলাই (শুক্রবার) দুপুরে শিশু রাফা মনির মৃত্যু হয়।
আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার দিনই স্থানীয় জনতা কবির ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরদিন ১৬ জুলাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শিশুর মৃত্যুর পর গত শুক্রবার নিহত রাফা মনির নানি সারমীন আক্তার বাদী হয়ে জামাতা কবির ইসলামকে আসামি করে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই আজ পুলিশ আসামি কবিরকে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।





















