ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

যেখানেই ফ্যাসিবাদ, সেখানেই প্রতিরোধ: জামায়াত আমীর

নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেখানেই ফ্যাসিবাদ থাকবে, সেখানেই প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। নতুন বা পুরাতন—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে জনগণ দুটি ভোট দিলেও কেবল একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হয়েছে। অথচ উভয় ভোটই সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি বলেন, অতীতে যে শাসনব্যবস্থা শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল, জনগণ সেই ধারার পরিবর্তন চেয়েছিল। এ লক্ষ্যেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে ৩১টি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয় এবং সেই ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমীরের অভিযোগ, সরকার ইতোমধ্যে মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করেছে। ফলে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো এখনো বহাল রয়েছে।

দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের বসবাস হলেও সুশিক্ষার অভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। উচ্চশিক্ষিতদের একটি অংশও আমানতের খেয়ানত করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশ পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যর্থতার কারণে সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ নতুন পরিবর্তনের আশা দেখেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের দেওয়া রায় সরকার অগ্রাহ্য করলেও বিরোধী দল তা করবে না। দেশে মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে।

মজলিসে শূরার অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:২১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
৪৫৯২ বার পড়া হয়েছে

যেখানেই ফ্যাসিবাদ, সেখানেই প্রতিরোধ: জামায়াত আমীর

আপডেট সময় ০৭:২১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেখানেই ফ্যাসিবাদ থাকবে, সেখানেই প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। নতুন বা পুরাতন—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে জনগণ দুটি ভোট দিলেও কেবল একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হয়েছে। অথচ উভয় ভোটই সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি বলেন, অতীতে যে শাসনব্যবস্থা শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল, জনগণ সেই ধারার পরিবর্তন চেয়েছিল। এ লক্ষ্যেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে ৩১টি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয় এবং সেই ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমীরের অভিযোগ, সরকার ইতোমধ্যে মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করেছে। ফলে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো এখনো বহাল রয়েছে।

দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের বসবাস হলেও সুশিক্ষার অভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। উচ্চশিক্ষিতদের একটি অংশও আমানতের খেয়ানত করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশ পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যর্থতার কারণে সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ নতুন পরিবর্তনের আশা দেখেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের দেওয়া রায় সরকার অগ্রাহ্য করলেও বিরোধী দল তা করবে না। দেশে মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে।

মজলিসে শূরার অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।