ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

নিরাপত্তা সংকটে এবারও হচ্ছে না চন্দ্রগঞ্জে হযরত দেওয়ান শাহ (রাঃ) ৪৩৮ তম মেলা

মো: ইসমত দ্দোহা, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী হযরত দেওয়ান শাহ (র) এর ৪৩৮ তম মেলা আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকায় গত বছরের ন্যায় এবারও হচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম। এই মেলা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে হযরত দেওয়ান শাহ (রাঃ) এর মাজারকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা, যা প্রায় ৪৩৮ বছরের পুরোনো। যেখানে ইসলাম প্রচার করতে আসা ৩৬০ আউলিয়ার একজন হিসেবে ফকির দেওয়ান শাহ (রাঃ) আস্তানা স্থাপন করেন এবং তাঁর মাজারকে ঘিরে এই মেলা প্রতি বছর বসে, যেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি নাগরদোলা, পুতুলনাচ, গান-বাজনা ও লোকজ পণ্যের সমাহার ঘটে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মানুষ মেলাকে বির্তকিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফকির দেওয়ান শাহ (রাঃ): প্রায় ৪৩৮-৪৪০ বছর আগে মক্কা থেকে ইসলাম প্রচারে এসে তিনি চন্দ্রগঞ্জের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আস্তানা গাড়েন এবং এখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করেই এই ধর্মীয় ও সা মাজিক মিলনস্থলের জন্ম।

এটি একটি বহু পুরোনো মেলা, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত, যেখানে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসেন। মাজার প্রাঙ্গণে বার্ষিক মাহফিল ও ওরস অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্তদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মেলায় নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাদু প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ধরনের লোকজ পণ্য ও খেলনার দোকান বসে। মেলা উপলক্ষে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসে এবং নানা ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেলার পরিবেশ নিয়ে কিছু মানুষ ইচ্ছে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মেলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য গত বছরও এই মেলার অনুমোদন দেওয়া হয় নি। চন্দ্রগঞ্জ হযরত দেওয়ান শাহ মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি সুফি সাধক দেওয়ান শাহ (রাঃ) এর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যা ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা না হওযায় এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে আনন্দ দেখা দিলেও সর্বোপরি পুরো এলাকার মানুষ হতাশ ।

এ বছরে মেলার বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেলার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন। ইতোমধ্যে মেলার জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোন জেলা থেকে কেউ মালামাল নিয়ে আসতে না পারে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে যারা মালামাল নিয়ে মেলায় আসেন তারা যেন এবছর মেলায় কোন মালামাল না নিয়ে আসে। কেউ যদি মালামাল নিয়ে আসে তাদের শাহী সিএনজি স্টেশনেই সব মালবাহী গাড়িকে আটকিয়ে দেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
৪৭২৩ বার পড়া হয়েছে

নিরাপত্তা সংকটে এবারও হচ্ছে না চন্দ্রগঞ্জে হযরত দেওয়ান শাহ (রাঃ) ৪৩৮ তম মেলা

আপডেট সময় ০৬:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী হযরত দেওয়ান শাহ (র) এর ৪৩৮ তম মেলা আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকায় গত বছরের ন্যায় এবারও হচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম। এই মেলা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে হযরত দেওয়ান শাহ (রাঃ) এর মাজারকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা, যা প্রায় ৪৩৮ বছরের পুরোনো। যেখানে ইসলাম প্রচার করতে আসা ৩৬০ আউলিয়ার একজন হিসেবে ফকির দেওয়ান শাহ (রাঃ) আস্তানা স্থাপন করেন এবং তাঁর মাজারকে ঘিরে এই মেলা প্রতি বছর বসে, যেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি নাগরদোলা, পুতুলনাচ, গান-বাজনা ও লোকজ পণ্যের সমাহার ঘটে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মানুষ মেলাকে বির্তকিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফকির দেওয়ান শাহ (রাঃ): প্রায় ৪৩৮-৪৪০ বছর আগে মক্কা থেকে ইসলাম প্রচারে এসে তিনি চন্দ্রগঞ্জের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আস্তানা গাড়েন এবং এখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করেই এই ধর্মীয় ও সা মাজিক মিলনস্থলের জন্ম।

এটি একটি বহু পুরোনো মেলা, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত, যেখানে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসেন। মাজার প্রাঙ্গণে বার্ষিক মাহফিল ও ওরস অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্তদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মেলায় নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাদু প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ধরনের লোকজ পণ্য ও খেলনার দোকান বসে। মেলা উপলক্ষে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসে এবং নানা ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেলার পরিবেশ নিয়ে কিছু মানুষ ইচ্ছে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মেলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য গত বছরও এই মেলার অনুমোদন দেওয়া হয় নি। চন্দ্রগঞ্জ হযরত দেওয়ান শাহ মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি সুফি সাধক দেওয়ান শাহ (রাঃ) এর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যা ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা না হওযায় এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে আনন্দ দেখা দিলেও সর্বোপরি পুরো এলাকার মানুষ হতাশ ।

এ বছরে মেলার বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেলার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন। ইতোমধ্যে মেলার জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোন জেলা থেকে কেউ মালামাল নিয়ে আসতে না পারে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে যারা মালামাল নিয়ে মেলায় আসেন তারা যেন এবছর মেলায় কোন মালামাল না নিয়ে আসে। কেউ যদি মালামাল নিয়ে আসে তাদের শাহী সিএনজি স্টেশনেই সব মালবাহী গাড়িকে আটকিয়ে দেওয়া হবে।