ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: রাষ্ট্রপতি Logo আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন, ব্যয় ৩৪০৯ কোটি টাকা Logo ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮ Logo ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, নিহত ১, গ্রেপ্তার ১,৮০০ Logo এনসিপির ৯ জেলা ও মহানগর কমিটি স্থগিত Logo প্রতিদিন এক কাঁধে ব্যাগ বহন করছেন? ঘাড়-পিঠে বাড়তে পারে ব্যথা Logo ২০২৭ বিশ্বকাপ জিতে ট্রফি খরা কাটাতে চায় পাকিস্তান: ফখর জামান Logo গ্রেপ্তারের একদিন পর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে Logo ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত Logo ট্রেড লাইসেন্স হবে একক অনলাইন পোর্টালে, যৌথ পরিদর্শনের পরিকল্পনা

অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে, আর বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পরাজিত করেছে।

রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এ অপকর্ম হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপনকারীদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। এ সময় মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৩২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৮:৩২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে, আর বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পরাজিত করেছে।

রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এ অপকর্ম হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপনকারীদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। এ সময় মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।